ওঙ্কার ডেস্কঃ উত্তর শেখ শাহজাহান গারদের ওপারে। তবে সন্দেশখালিতে সন্ত্রাসের বাড়বাড়ন্ত। সন্দেশখালির একাধিক জায়গায় একের পর এক অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ মিলেছে। উদ্ধার হয়েছে ১৮ আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ। শনিবার শাহজাহান ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছিল ১৩ আগ্নেয়াস্ত্র। এবার সেই ঘটনায় এসটিএফের জালে ৬। সূত্রের খবর, এরা সকলেই শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে।
ধৃতদের মধ্যে গোপাল দাস, রমজান মোল্লা, লুৎফর মোল্লা ও জহর মোল্লা নামে চারজন রয়েছেন। ধৃত গোপাল দাস সরবেড়িয়ার প্রাক্তন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি রবীন দাসের ভাই। শনিবার থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। অবশেষে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার সকাল থেকে এনআইএ, রাজ্য পুলিশের এটিএফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এক যোগে তল্লাশি শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায়। আর সেই অভিযানেই মেলে কাঁড়ি কাঁড়ি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থেকে গ্রেফতার তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী রমজান মোল্লা সহ কয়েকজন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সন্দেশখালিকাণ্ডের পর যখন গা ঢাকা দেন শেখ শাহজাহান, তখন বেশ কিছুদিন তিনি রমজান মোল্লার বাড়িতেই লুকিয়ে ছিলেন।
শনিবার সন্দেশখালিতে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন। বেঙ্গল এসটিএফের আধিকারিকদের প্রশংসা করে তিনি লেখেন, ‘আগের সরকারের আমলে স্থানীয়দের ভয় পাওয়ানোর জন্য বেআইনি অস্ত্রশস্ত্র মজুত করা হত।’
২০২৪ সালে রেশন দুর্নীতির তদন্তে ইডি শেখ শাহজাহানের বাড়িতে পৌঁছতেই ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল শাহজাহানের দলবল। তারপর প্রায় ৩ মাস ফেরার থাকার পর রাজ্য পুলিশের জালে উঠেছিল সন্দেশখালির ‘ত্রাস’। ২ বছরের বেশি সময় জেলবন্দি শাহজাহান। তবুও সন্দেশখালির একাধিক জায়গায় এখনোও সন্ত্রাসের দাপট। জেলবন্দি শাহজাহানের হাতেই কি এখনও সন্দেশখালির সন্ত্রাসের রাশ? সেসব বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।