ওঙ্কার ডেস্কঃ বছর দশেক আগে ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে গোমাংস খেয়েছিলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। উদ্দেশ্য ছিল, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া। বছর দশের পর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই ঘটনায় এবার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ির সামনে হিন্দুত্ববাদীদের ‘পর্ক উৎসব’। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বামনেতার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ‘পর্ক উৎসব’ উদযাপন করছেন কয়েকজন যুবক। তাঁদের দাবি, তাঁরা অরাজনৈতিক হিন্দু সংগঠন ‘জাতির কথা’র সদস্য।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি টিফিন বক্স হাতে বামনেতার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এক যুবক। তিনি বিকাশবাবুকে বাইরে ডাকছেন শুয়োরের মাংস খাওয়ার জন্য। নিজেকে ব্রাহ্মন সন্তান বলেও পরিচয়ও দেন তিনি। তাঁর যুক্তি একটাই, ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিতে যদি তিনি গোমাংস খেতে পারেন, তাহলে শুয়োর খাবেন না কেন!
এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বিবেকানন্দকে স্মরণ করে বুঝিয়ে দিলেন, নিজের অবস্থানে তিনি অনড়। সোশাল মিডিয়াতেই এই ঘটনার জবাব দিয়েছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি লেখেন, ‘সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দেখে খুব উল্লসিত হলাম। কিছু সনাতনী দাবিদার ‘অসনাতনী’ পোষাকে সজ্জিত হয়ে আমার বাড়ির সামনে এসে শুয়োরের মাংস খেয়ে ‘পর্ক উৎসব’ পালন করলেন। তাঁরা প্রমাণ করলেন সনাতনী হলে শুয়োর খেতে আপত্তি নেই। আর একটু কষ্ট করে বিবেকানন্দ চর্চা করলে গরুর মাংস খাওয়ায় কোনও আপত্তি থাকতো না। অবশ্য ওদের মতে বিবেকানন্দ হয়তো হিন্দু সনাতনী নয়। আরও ভাল হতো যদি ওরা দেখাতেন, কোনও এক রামহনুমানপ্রসাদজীর ফ্রিজে শুয়োরের মাংস রাখার জন্য রহমত আলীরা তাঁকে পিটিয়ে খুন করেছে।’