ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চিঠি লিখে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর প্রক্রিয়াগত ত্রুটি রয়েছে, যার ফলে রাজ্যের সাধারণ ভোটাররা চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর মূল অভিযোগ, এসআইআর-এর সময় ভোটারদের কাছ থেকে জমা নেওয়া নথিপত্রের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না। বহু ক্ষেত্রেই ভোটাররা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে। কোথাও কোথাও নথি জমা দেওয়ার কোনও রসিদ বা লিখিত প্রমাণ না থাকায় পরবর্তী পর্যায়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে সংশ্লিষ্ট ভোটার কোনও নথিই জমা দেননি। এর ফলে সাধারণ মানুষকে বারবার অফিসে ঘুরতে হচ্ছে এবং হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ তুলেছেন, পুরনো ভোটার তালিকা ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তরের সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে বহু ভুল ধরা পড়ছে। নামের বানান, বয়স, লিঙ্গ কিংবা পারিবারিক তথ্যের সামান্য অমিলকে ‘লজিক্যাল এরর’ হিসেবে চিহ্নিত করে ভোটারদের সন্দেহভাজন তালিকায় ফেলা হচ্ছে। অথচ এই ধরনের ছোটখাটো ভুল সংশোধনযোগ্য হলেও তা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, গত দুই দশকে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সংশোধন, শুনানি এবং আধা-ন্যায়িক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেসব ভোটার বৈধ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন, এসআইআর-এর সময় সেই সিদ্ধান্তগুলিকেও কার্যত উপেক্ষা করা হচ্ছে। ফলে বহু পুরনো ও নিয়মিত ভোটারকে নতুন করে নিজেদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা অযৌক্তিক এবং অমানবিক।
চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানান, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবুও পরিস্থিতির কোনও বাস্তব উন্নতি না হওয়ায় ফের লিখিতভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন জানাতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, যদি অবিলম্বে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে বহু প্রকৃত ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন।
এসআইআর ঘিরে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একদিকে শাসকদলের তরফে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্ন তুলে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করছে। এর মাঝেই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।
