ওঙ্কার ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর থেকেই নিজেদের অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে ১৯৯৬ সালে তৈরি হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস। দক্ষিণ কলকাতায় ভবানীপুর বিধানসভায় তথা ঘরের মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডাহা হেরেছেন। তার পাশের আসন রাসবিহারীতেও হেরেছে তৃণমূল। এবার খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা নির্বাচন কেন্দ্র এবং তাঁর খাসদুর্গ বলে পরিচিত দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রেও বড়সড় ভাঙন ধরে গেল। বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন দক্ষিণ কলকাতার প্রবীণ ও প্রভাবশালী তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। ‘এনডিএ সমর্থক ব্লকে’ তিনি সই করে দিচ্ছেন তিনি। জানা গিয়েছে, বিকেলের পর থেকেই মালা রায় বিমানে করে স্বামী নির্বেদ রায়, ছেলে ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লিতে গিয়েছেন মালা রায়। মঙ্গলবার সন্ধেয় সই সাবুদ না হয়ে থাকলে আজ বুধবার তা তিনি করে দিতে পারেন বলেই খবর। কাকলি ঘোষ দস্তিদার থেকে শুরু করে একে পর এক নেতা দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মালা রায়ও এবার মমতা-অভিষেকের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে বিদ্রোহী ব্লকে সামিল হতে চলায় কলকাতার রাজনীতিতে একপ্রকার আন্দোলিত হয়ে গেল।
বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির সূত্রে জানা যাচ্ছে, মালা রায়ের এই যোগদানের ফলে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের শক্তি আরও বেড়ে গেল। এর আগে সোমবার রাতেই ১৬ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার উদ্দেশে লেখা চিঠিতে সই করেছিলেন। তার পর মঙ্গলবার সায়নী ঘোষের নাম যুক্ত হওয়ার জল্পনা তৈরি হয়। এবার মালা রায়, মিতালি বাগও যদি এই খাতায় সই করে দেন, তবে বিদ্রোহী শিবিরের দাবি করা ২০ পার করার লক্ষ্য পূরণ হওয়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন একের পর এক দলের বরিষ্ঠ নেতা এর ফলে লোকসভায় একদিকে যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কীর্তি আজাদরা কার্যত সম্পূর্ণ কোণঠাসা ও মাইনোরিটি হয়ে যাচ্ছেন, তেমনই কলকাতার পুর রাজনীতি ও সংগঠনের উপরেও এর এক সুদূরপ্রসারী এবং মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে।