নিজস্ব প্রতিনিধি, ফলতা; কড়া নিরাপত্তায় ডায়মন্ড হারবার আদালতে আনা হল ‘ফলতার পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খানকে। পুষ্পার পাশে দাঁড়াল না কোনও আইনজীবী। কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারির মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালত চত্বর জুড়ে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আদালতের বাইরে ও ভিতরে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।মঙ্গলবার সকাল থেকেই ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালত চত্বরে বাড়তি সতর্কতা দেখা যায় প্রশাসনের তরফে। আদালত চত্বরে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি ছিল লক্ষণীয়। পুলিশের পক্ষ থেকে গোটা পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। জাহাঙ্গির খানকে আদালতে তোলাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও বিশৃঙ্খলা বা অশান্তির পরিস্থিতি না তৈরি হয়, সেই কারণেই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এদিন ডায়মন্ড হারবার ক্রিমিনাল কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহাঙ্গির খানের হয়ে কোনও আইনজীবী আদালতে দাঁড়াবেন না। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি তথা আইনজীবী সজল মণ্ডল জানান, অভিযুক্তের পক্ষে কেউ সওয়াল করতে আগ্রহী নন। জাহাঙ্গীর খানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৭(২), ১২৬(২), ৩০৫(B), ৩২৪(৫), ১০৯, ৩০৮-সহ একাধিক গুরুতর ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করেই তদন্তকারীরা আইনের বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এদিন আদালতে জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল দেখা যায়। আদালত চত্বরে বহু মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। যদিও নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের চারপাশে পুলিশি টহলও জোরদার করা হয়।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গির খান দীর্ঘদিন ধরেই ফলতা এলাকার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। স্থানীয় মহলে ‘ফলতার পুষ্পা’ নামেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পর তাঁকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
তবে আইনের চোখে অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অভিযুক্তই। আদালতেই প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে। তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। আগামী দিনে তদন্তে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।