ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সেই নিয়ে সেজে উঠতে চলেছে গোটা কলকাতা মহানগরী। সেই আয়োজন উপলক্ষে কলকাতার গঙ্গা বক্ষে ৫০০ নৌকাতে অনুস্থিত হতে চলেছে যোগ ব্যায়ামের অনুষ্ঠান। তাঁর সঙ্গে আগামী কয়েকদিন সুন্দরবনের জঙ্গল সাফারি ও পর্যটন কার্যত বন্ধ থাকছে। এতে আগে থেকে বুকিং করা বহু পর্যটক সমস্যায় পড়লেও প্রশাসনের দাবি, বিশেষ এই জাতীয় অনুষ্ঠানের কারণেই সাময়িক এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০ জুন গঙ্গাবক্ষে ৫০০ নৌকায় একযোগে যোগাভ্যাস করবেন রাজ্যবাসী। তার পরের দিন যোগ দিবসে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মহাসমাবেশ— সব মিলিয়ে আগামী দিনগুলিতে এক অনন্য যোগ-উৎসবে মাতবে তিলোত্তমা। প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে তুঙ্গে। রাজ্য ও কেন্দ্রের আয়ুষ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে এই সুবিশাল আয়োজনকে ঘিরে এখন থেকেই চড়ছে পারদ। বারাণসী কিংবা হৃষীকেশের পবিত্র ঘাটে গঙ্গার বুকে যোগাভ্যাসের ছবি আমরা অনেকেই দেখেছি। কিন্তু বাংলার মাটিতে গঙ্গাবক্ষকে কেন্দ্র করে এমন অভিনব এবং সুবিশাল উদ্যোগ এই প্রথম। আগামী ২০ জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে গঙ্গার বুকে আয়োজিত হতে চলেছে এই জমকালো যোগাভ্যাসের মেগা কার্নিভাল।
নবান্ন সুত্রে খবর, সেদিন গঙ্গার বুকে একযোগে নামবে ৫০০টি নৌকা। আর সেই নৌকাগুলির ওপরেই চলবে যোগাভ্যাস। এই অভূতপূর্ব উদ্যোগ সফল হলে তা সরাসরি জায়গা করে নেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। শুধু যোগাসনই নয়, এই মেগা ইভেন্টকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে মিলেনিয়াম পার্ক, বেলুড় মঠ, দক্ষিণেশ্বর এবং বাবুঘাটে থাকছে চোখধাঁধানো ড্রোন শো এবং এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক কার্নিভাল। এই বৃহৎ আয়োজনের জন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটকবাহী বোট ও লঞ্চকে কলকাতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই মঙ্গলবার থেকে সুন্দরবনের পর্যটন পরিষেবা কার্যত বন্ধ রাখা হচ্ছে। ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৬ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সুন্দরবনের জঙ্গল ও পর্যটনকেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকবে। ফলে এই সময়ের মধ্যে জঙ্গল সাফারি, নদীপথে ভ্রমণ বা পর্যটন সংক্রান্ত অন্য কোনও পরিষেবা পাওয়া যাবে না।
এই সিদ্ধান্তে কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। বর্তমানে সুন্দরবনে ইলিশ উৎসবের মরশুম চলছে। জুন মাস পড়তেই পর্যটকদের ভিড়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু মানুষ আগাম হোটেল, লঞ্চ এবং যাতায়াতের টিকিট বুক করে রেখেছিলেন। ফলে আচমকা পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। সুন্দরবনের এক পর্যটন ব্যবসায়ী জানান, আগে থেকেই বহু বুকিং করা ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা সুন্দরবনে আসেন। তাঁদের বিমান বা ট্রেনের টিকিটও আগে থেকে কাটা থাকে। তাই কিছুটা অসুবিধা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য সকলকেই সহযোগিতা করতে হবে বলে তিনি মনে করছেন।