ওঙ্কার ডেস্ক: পালাবদলের পর পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে নবান্নে বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা এবং নবনির্বাচিত বিধায়করা। এছাড়াও ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। বলাই বাহুল্য বিজেপির এই বিপুল পরিমানে জয়ের পেছনে পাহাড়ের অবদান অনস্বীকার্য সবচেয়ে আশ্চর্যের বিশয় এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা। চা-বাগান, পুরসভা ইত্যাদি নানা বিষয়ে আলোচনা হয় শুক্রবারের বৈঠকে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে অন্যতম, কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ। তাঁর দাবি, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য বিজেপি সরকার বদ্ধপরিকর। এদিনের বৈঠকের পর তিনি জানান, পাহাড়ের তিন পুরসভায় মহকুমাশাসকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং বাদে পাহাড়ের তিন পুরসভায় প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিক। “উত্তরবঙ্গে ২৫টি বড় চা বাগান বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ২০২১ সালের বাজেটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চা শ্রমিকদের জন্য ১০০০ কোটির প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার উদ্যোগ নেয়নি। তাই শ্রমিকরা সুবিধা পাননি। আগের সরকারের উদাসীনতার জন্য শ্রমিকরা বঞ্চিত হয়েছেন। অসমের মতো এখানে চা শ্রমিকদের প্রকল্প চালু করার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্র ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করতে রাজি আছি এই অর্থবর্ষে। এই টাকা দিয়ে পাহাড় থেকে তরাই পর্যন্ত চা শ্রমিকদের সাহায্য করা হবে।” গত বছর দুর্যোগে উত্তরবঙ্গের যে ১০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বা যাঁরা গৃহহীন হয়েছিলেন, সেগুলির জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু আগের সরকার টাকা বরাদ্দ করেনি। সাংসদ রাজু বিস্তা নিজ উদ্যোগে ১০টি বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন। বাকি ৯০টি বাড়ি তৈরির জন্য ৩ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এর আগে পাহাড়ে শিক্ষক নিয়োগে যে ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেই মামলায় জড়িত ছিল আগের রাজ্য সরকার। কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু আগের রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে স্থগিতাদেশ আদায় করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানিয়েছেন, এই মামলা থেকে সরে দাঁড়াবে রাজ্য সরকার। এর ফলে সিবিআইয়ের সামনে আর কোনও বাধা রইল না তদন্ত করার জন্য।