ওঙ্কার বাংলা: বকেয়া রয়েছে বেতন, এই অভিযোগে ঝুড়ি কোদাল মাটিতে ফেলে বিক্ষোভ দেখালেন হুগলীর বাঁশবেড়িয়া পুরসভার সাফাই কর্মীরা। পালাবদলের পরে সকল পুরসভায় পদত্যাগের হুড়োহুড়ি পড়েছে। সেই মত বাঁশবেড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান তাপস মুখোপাধ্যায় ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পী চ্যাটার্জি সহ কয়েকজন কাউন্সিলর ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার আগে সাফাই কর্মীদের বকেয়া বেতন সংক্রান্ত কোন ও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। এমনকি পুরসভার কাছে তাদের সমস্ত বেতন জমা হয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পদত্যাগের পর সেই আশ্বাস পুরন হয়নি বলে দাবি সাফাই কর্মীদের। বর্তমানে বেতন না পেয়ে পুরসভার গেটের বাইরে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন তাঁরা। আগের চেয়ারম্যান অনেক বার সকল কর্মীদের আশ্বাস দিয়েছেন পুরসভার সাফাই কর্মীদের জন্য ২ কোটি টাকা রাখা রয়েছে, কাজেই পরবর্তী সময়ে তাদের বেতন নিয়ে কোন ও রকম সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সাফাই কর্মীদের একাংশের দাবি, চেয়ার ম্যান চলে যাওয়ার পরে আশ্বাস মত তাদের টাকা ফেরৎ দেওয়া হয়নি। পরবর্তী কালে সপ্তগ্রামের বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ পুরসভায় গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী দিনে কিভাবে জীবন জীবিকা নির্বাহ করবেন, এই নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে সবার কপালে। ছুটির দিনেও তাদের কাজ করতে হয় তার জন্য অতিরিক্ত কোনও টাকা দেওয়া হয় না। নিয়ম মাফিক ছুটিও দেওয়া হয় না। বাঁশবেড়িয়ার পৌরসভার সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভের শামিল হয় সাফাই কর্মীরা। পৌরসভার চেয়ারম্যান তাপস মুখোপাধ্যায় জানান যে, সাফাই কর্মীদের দাবি নায্য। পৌরসভার অনেক আর্থিক প্রতিবন্ধকতা আছে। চেষ্টা করছি কর্মীদের বেতন যাতে ঠিক সময় দেওয়া যায়।
কর্মী বিক্ষোভের জেরে পৌরসভা কাজ বন্ধ হয়ে যায়। চেয়ারম্যান পৌরসভার নিচে কর্মীদের সঙ্গে বসে থাকেন। বাইরে বিক্ষোভ চলতে থাকে।
চেয়ারম্যান সব কর্মীদের বেতন দেয়ার জন্য তিন-চারদিন সময় চেয়েছেন। কিন্তু বিক্ষোভরত কর্মীরা তা দিতে নারাজ। সাফাই কর্মী জানান যে, মাইনের নির্দিষ্ট কোনও দিন নেই। কোনও কোনও সময়ে এক মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও মাইনে পান না। সরকারি ছুটির দিন তারা কাজ করলে সেই টাকাও পর্যন্ত দেওয়া হয় না। বিভিন্ন খাতে যে টাকা কাটা হয় সেই টাকা তাদের একাউন্টে জমা পড়ে না। এখন তাঁদের একটাই দাবি নির্দিষ্ট সময়ে মাইনে দিতে হবে। সংসার চালানোর জন্য কোনও সমস্যার সম্মুখীন যাতে না হতে হয়।
প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন আগে কাজের নিশ্চয়তা, বেতন বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন উত্তর দমদম পৌরসভার অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা। আর কর্মীদের সেই আন্দোলনের সঙ্গী হয়েছিলেন বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়, বাম নেত্রী দীপ্সিতা ধর। এবার আবারো পথে অস্থায়ী কর্মীরা। পুরসভার নাম বদলেছে, তবে পরিবর্তন হয়নি দাবি-দাওয়া। বিক্ষোভরত কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাড়েনি তাদের বেতন।’স্থায়ী’ হননি কামারহাটী পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। কোনো কর্মীর ৬০ বছরের কোঠা পেরোলেই তাঁকে কোনো রকম আর্থিক সাহায্য ছাড়াই কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নিকাশি থেকে সাফাই কর্মী – তীব্র গরমের কাজ করতে গিয়ে কোনো অস্থায়ী কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেনা পৌরসভা।
অস্থায়ী কর্মীদের আরও অভিযোগ, পুরসভার তৎকালীন পৌরপ্রধান গোপাল সাহার কাছে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানাতে গেলে জোটে খারাপ ব্যবহার। এমনটাই অভিযোগ আন্দোলনকারী অস্থায়ী কর্মীদের। তবে বঙ্গে পালাবদল হতেই একের পর এক পুরসভায় যখন একাধিক দাবিকে সামনে রেখে প্রতিবাদে গর্জে উঠছেন অস্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা তখন সেই তালিকায় নাম লেখালেন কামারহাটি পৌরসভার পৌরকর্মীরাও। এদিন তাই জরুরী পরিষেবা ছাড়া অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন কামারহাটি পুরসভার বহু অস্থায়ী কর্মীরা। যতদিন না পর্যন্ত তাদের সমস্যা মেটে বন্ধ থাকবে পরিষেবা। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি বিক্ষোভকারীদের। বেতন বৃদ্ধি, এককালীন টাকা দিয়ে ষাটোর্ধ অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া সহ একাধিক দাবি রেখেছেন তারা।
অন্যদিকে পৌরপ্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেবার আগে গোপাল সাহা জানান – “আন্দোলনকারীদের পাশে আছি।” সেই সঙ্গে আগামী বোর্ড মিটিংয়ে অস্থায়ী কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান। তবে সকালে এই আশ্বাস দেবার পর সন্ধ্যেতেই এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।