ওঙ্কার ডেস্ক: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর পর রাজ্যজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন দুই পুলিশ আধিকারিক অর্ঘ্য মণ্ডল ও রনি সরকার। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্তের হামলার মুখে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন তাঁরা। এই ঘটনার পর পুলিশি পদক্ষেপকে ঘিরে যেমন জনমহলের একাংশে প্রশংসা শোনা যাচ্ছে, তেমনই আইন মেনে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তও শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য রাতে বারুইপুরের সূর্যপুরের নাচনগাছা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রভাস মণ্ডলকে। অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, সেই সময় প্রভাস ক্যানিং থানার আইসি রনি সরকারের কোমর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয় এবং পালানোর চেষ্টা করে। তাঁকে আটকাতে গেলে অভিযুক্ত একটি গুলি চালায় বলেও পুলিশের দাবি। সেই পরিস্থিতিতে সহকর্মীর প্রাণ বাঁচাতে এবং আত্মরক্ষার্থে বারুইপুর থানার অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল নিজের সার্ভিস রিভলভার থেকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি চালান। একটি গুলি প্রভাসের বুকের নীচের অংশে এবং অন্যটি কোমরের উপরের অংশে লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিছু দূর দৌড়ে গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে অভিযুক্ত। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া বয়ানে দুই পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে যায়। তাঁদের দাবি, অভিযুক্তের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল এবং আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালানো ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না। পুলিশের দাবি, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রভাস প্রাণভিক্ষাও চেয়েছিল। ঘটনার পর দুই অফিসারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশি গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় আইন অনুযায়ী পৃথক এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত চলছে। পাশাপাশি ঘটনাটি মানবাধিকার কমিশনকেও জানানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে দুই পুলিশ আধিকারিকের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা রক্তের নমুনা, আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য আলামতও সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা পুরো ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছেন।