নিজস্ব প্রতিবেদন : আরামবাগ :
পরিবেশ রক্ষা, গঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে অভিনব ‘মীন মঙ্গল উৎসব’এর আয়োজন করল গঙ্গা মিশন। হুগলি জেলার তারকেশ্বরের তারকনাথ শিব মন্দির সংলগ্ন হনুমান প্রসাদ মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই উৎসবকে ঘিরে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

অনুষ্ঠানের সূচনায় গঙ্গা মিশনের উদ্যোগে একটি বিনামূল্যের স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়। এলাকার বহু দুঃস্থ ও সাধারণ মানুষ সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে পাখিদের জন্য বাসা বিতরণ, গ্রীষ্মকালে পাখিদের পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে ‘ওয়াটার ফিউরি ফায়ার’ প্রদান এবং মৎস্যজীবীদের হাতে মাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গা মিশনের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রহ্লাদ রায় গোয়েঙ্কা, সমাজসেবী সুশীল চৌধুরী, জগোদ্বীশ প্রসাদ-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। বক্তারা গঙ্গা নদীর গুরুত্ব এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।গঙ্গা মিশনের মূল উদ্যোক্তা প্রহ্লাদ রায় গোয়েঙ্কা বলেন, “গঙ্গা শুধুমাত্র একটি নদী নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু ক্রমবর্ধমান দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে গঙ্গার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গঙ্গাকে বাঁচাতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। নদীতে প্লাস্টিক ও বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে সচেতন হতে হবে।”তিনি আরও বলেন, “গঙ্গা নদীকে কেন্দ্র করেই অসংখ্য জলজ প্রাণী, পাখি এবং মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল। তাই গঙ্গার স্বাস্থ্য ভালো রাখা মানে প্রকৃতি ও সমাজ—উভয়কেই সুরক্ষিত রাখা।”অন্যদিকে সুশীল চৌধুরী পাখিদের জন্য বাসা বিতরণের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, “শহর ও গ্রামে দ্রুত বৃক্ষনিধন, কংক্রিটের বিস্তার এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে বহু প্রজাতির পাখি আশ্রয় সংকটে পড়ছে। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, বীজ বিস্তার এবং বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে পাখিদের অবদান অপরিসীম।”তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি আমাদের বাড়ি, স্কুল, মন্দির বা আশপাশের গাছে পাখিদের জন্য বাসা ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করি, তাহলে তাদের বেঁচে থাকার সুযোগ অনেকটাই বাড়বে। আগামী প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও সবুজ পরিবেশ উপহার দিতে হলে পাখি, নদী ও প্রকৃতিকে সমানভাবে রক্ষা করতে হবে।”

পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই মীন মঙ্গল উৎসব শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং গঙ্গা নদীর পরিচ্ছন্নতা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে বলে মত উপস্থিত বিশিষ্টজনদের।এই উৎসব সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার সচেতনতা আরও বাড়াবে বলেই আশাবাদী আয়োজকরা।