ওঙ্কার ডেস্ক: প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের দিন মুর্শিদাবাদের একটি ভোটকেন্দ্রে ‘ওয়াকফ’ সংক্রান্ত হিংসায় নিহত হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী সেদিন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে কেন্দ্রে পৌঁছন। ভোট দেওয়ার পর তাঁর মুখে একটাই কথা স্বামীর মৃত্যুর বিচার চাই। ব্যক্তিগত শোক আর ক্ষোভ নিয়েই তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেন তিনি।
গত বছরের এপ্রিল মাসে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের জাফরাবাদ এলাকায় ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে নৃশংসভাবে খুন হন হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাস। অভিযোগ, বিক্ষোভের মাঝে তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় এবং কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল এবং রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক আলোড়ন পড়ে। পরবর্তীতে তদন্তের ভিত্তিতে এই ঘটনায় একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবুও দাস পরিবারের দাবি, এই রায়ে পুরোপুরি ন্যায়বিচার মেলেনি। তাঁদের মতে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও কিছু ব্যক্তি এখনও শাস্তির বাইরে রয়ে গিয়েছে।
নির্বাচনের আগে থেকেই নিহতদের পরিবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা বিজেপি পার্টির সমর্থনে প্রচারেও অংশ নেয় এবং দাবি করে, শুরু থেকেই বিজেপির দলীয় কর্মীরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবারের লোকজন। এই প্রেক্ষাপটে ভোটের দিন তাঁদের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী জানান, এই ভোট শুধুমাত্র সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ নয়, বরং স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর বিচার চাওয়ার একটি মাধ্যম। ব্যক্তিগত শোক কখনও মুছে যাওয়ার নয়, কিন্তু ন্যায়বিচারের আশাতেই তিনি ভোট দিয়েছেন।