ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয় ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে। সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে। এই পর্যায়ের ভোটপর্ব পর্যবেক্ষণ করতে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে যান। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁরা দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়ার একাধিক ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক নির্বাচন দর্শনার্থী কর্মসূচি বা আইইভিপি ২০২৬-এর আওতায় নামিবিয়া, জর্জিয়া, নেপাল, ফিলিপিন্স, সুইৎজারল্যান্ড, কেনিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা আইডিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে। এই প্রতিনিধিদলের উদ্দেশ্য হল ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভোটারবান্ধব পরিষেবার কার্যকারিতা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা।
শিলিগুড়ি ও মাটিগাড়ার ভোটকেন্দ্রগুলি ঘুরে দেখে প্রতিনিধিরা ভোটপর্বের ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা, প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য হুইলচেয়ার, পানীয় জল, বিশ্রামের জায়গা এবং ছায়ার মতো ন্যূনতম সুবিধার প্রশংসা করেন। ভোটকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনাও তাঁদের নজর কেড়েছে বলে জানা যায়। নির্বাচন কমিশনের জানায়, এই ধরনের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক শক্তিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামেও সকাল থেকেই ছিল কড়া নজরদারি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজের কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। বুথে বুথে ঘুরে তিনি দাবি করেন, আগের নির্বাচনের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, অতীতের ভোটে ভোটের আগের রাত থেকেই শাসকদলের সমর্থকেরা ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করত, কিন্তু এবারের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেই ধরনের কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দিনভর শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো এবং বাংলায় তিন দফায় মনোনীত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে দুই কেন্দ্রেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। এদিন রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট দেন বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ও প্রার্থী। বিজেপি বিধায়ক তথা প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল, দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং শিলিগুড়ি পুরনিগমের মেয়র সকালেই ভোট দিয়ে এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতির খোঁজ নেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি বুথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, ফলে এখন পর্যন্ত ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণ বলেই খবর।