ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এবার এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল কাউন্সিল অব হাইয়ার সেকেন্ডারি এডুকেশন চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষায় আর লুজ শিট দেওয়া হবে না। দীর্ঘ দিন ধরে পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত পাতা বা খালি শিট দেওয়ার পর, প্রয়োজনে উত্তরের জন্য ব্যবহার করার সুযোগ থাকলেও এবার থেকে আর সেটা হবে না।
পর্ষদের নয়া নির্দেশ অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট উত্তরপত্র হবে তার মধ্যে নির্ধারিত সংখ্যক পাতা থাকবেস। এবং পরীক্ষার শেষে যেখানে শেষ লিখেছে, সেখানে পরীক্ষা শুরুর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বা ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। সেই স্বাক্ষরই হবে উত্তরপত্রের শেষ চিহ্ন। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত পাতা চেয়ে বা নিজে সাথে নিয়ে লিখতে পারবেন না, উত্তর শেষ হলে ভুলক্রমে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য পাতা যুক্ত করার সুযোগ থাকবে না।
এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে বোর্ড জানিয়েছে, অতিরিক্ত পাতা বা লুজ শিটের কারণে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ ঝামেলা, অনিয়ম কিংবা পরে ফলাফল চ্যালেঞ্জ, পুনর্মূল্যায়ন বা তথ্য-প্রদানের সময় পৃষ্ঠা হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠত। নতুন নিয়মে, পরীক্ষার সময় ও পরবর্তী সময়ের জন্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়া হবে আরো স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য। যে পাতা সফর করবে, তার সবই যাবে একটাই বাউন্ড আর তার শেষে ইনভিজিলেটরের সই থাকবে ফলে কত লিখেছেন, কোন পাতা ছিল ইত্যাদি নিয়ে বিতর্কের সুযোগ থাকবে না।
গত বছর থেকে বোর্ড সেমিস্টার ভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করেছে অর্থাৎ, বার্ষিক স্তরের পরিবর্তে একাডেমিক বছরের মধ্যে দুটি সেমিস্টার। চতুর্থ সেমিস্টারই হবে দ্বাদশ শ্রেণার ফাইনাল, এবং বোর্ডের মতে নতুন পাঠ্যক্রম ও প্রশ্নপত্র বিন্যাস যেখানে সংক্ষিপ্ত উত্তর থেকে বর্ণনামূলক প্রশ্ন থাকবে নতুন নিয়ম এই বাউন্ড উত্তরপত্র দিয়েই যথেষ্ট হবে। অতিরিক্ত লুজ শিটের প্রয়োজন হবে না বলে বোঝানো হয়েছে।
এই পরিবর্তন যেভাবে এসেছে, তাতে পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতির ধরনে কিছু বদল আসবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য লেখার পরিকল্পনা, উত্তর বিন্যাস, সময় ব্যবস্থাপনায় সচেতন হতে হবে কারণ অতিরিক্ত পাতা পাওয়ার সাধারণ রূপ বিকল্প থাকবে না। পরীক্ষার্থীদের সচেতন ও তৈরি থাকা জরুরি হবে। বোর্ড-স্তরের এই সিদ্ধান্ত পরীক্ষার ন্যায্যতা এবং মূল্যায়নের স্বচ্ছতা বজায় রাখার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য হয়তো এখন একটু খাটনি বাড়বে তবে ভবিষ্যতে জটিলতার সম্ভাবনা কমাবে, এমনটাই মনে করছে পর্ষদ।
