ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে বেহাল অবস্থা বঙ্গে বিগত ১৫ বছর ধরে শাসন চালিয়ে যাওয়া তৃণমূলের। একদা বিপল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে সরকার চালানো দল তৃণমূল এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে জিতেছেন মাত্র ৮০ জন। নিজের এলাকা, ভবানীপুর থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১৫ হাজার ভোটে হেরেছেন শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। নির্বাচনে হারার পর পরবর্তী সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। শুক্রবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ বাসভবনে পরাজিত প্রার্থীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের কিছু মুহুর্ত এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে চেষ্টা করেন।
বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের ক্ষমতা হারানোর ধাক্কায় যখন দলের অন্দরে ভাঙন, হতাশা এবং নেতৃত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে, সেই পরিস্থিতিতে দলনেত্রীর বার্তা ছিল স্পষ্ট সংগঠনকে ভেঙে পড়তে দেওয়া হবে না, বরং নতুনভাবে আরও শক্তিশালী ভিত্তির উপর পুনর্গঠন করা হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরাজিত প্রার্থী, বিভিন্ন জেলার সভাপতি, সাংগঠনিক নেতৃত্ব এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী। সূত্রের খবর, নির্বাচনী ফলাফলের কারণ বিশ্লেষণে মমতা বিশেষ গুরুত্ব দেন। কোথায় সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল, কোন স্তরে জনসংযোগে ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কতটা ক্ষতি করেছে, তা খতিয়ে দেখতে জেলা ভিত্তিক রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। বুথ স্তর থেকে ব্লক ও জেলা পর্যায় পর্যন্ত সংগঠন ঢেলে সাজানোর নির্দেশও দেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ব্যক্তিস্বার্থ বা সুবিধাবাদী রাজনীতির জায়গা দলে থাকবে না। যারা রাজনৈতিকভাবে অন্য পথে যেতে চান, তাদের সিদ্ধান্তে বাধা দেওয়া হবে না, তবে তৃণমূলের আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি অনুগত কর্মীদের নিয়েই আগামী দিনের লড়াই গড়ে তোলা হবে। এই বার্তা কার্যত দলীয় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বোঝাতে চাইয়ছেন যে বিরোধী আসনে বসেও তিনি রাজ্যের রাজনীতিতে লড়াই থেকে সরে যাচ্ছেন না। বরং বিজেপির উত্থানের মোকাবিলায় তিনি আরও আক্রমণাত্মক সাংগঠনিক পথে হাঁটতে পারেন। দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, আক্রান্ত নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা, হারানো সংগঠন পুনর্দখল এবং গ্রাসরুট স্তরে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
দলের অন্দরে একাংশের অসন্তোষ, একাধিক নেতার নিষ্ক্রিয়তা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনার মধ্যেও মমতার অবস্থান পরিষ্কার তৃণমূল কংগ্রেসের পুনর্জাগরণের নেতৃত্ব তিনিই দেবেন। মনে করা হচ্ছে এই বৈঠক নির্বাচনী পরাজয়ের পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে রেখে তৃণমূলের পুনর্গঠনের সূচনা হতে পারে। সংকটের মুহূর্তে সংগঠনকে নতুন করে একত্রিত করে ফের জনভিত্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশল নির্ধারিত হচ্ছে।