অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: বেহালার সরশুনায় প্রেমিক ও তাঁর পরিবারকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনায় অভিযুক্তদেরও একইভাবে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে কমিশন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। দু সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনারকে নোটিস পাঠিয়েছে এনএইচআরসি। কমিশনের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে তারা এই পদক্ষেপ করেছে। সরশুনায় ঠিক কী ঘটেছিল, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সঠিক কি না এবং সঠিক হলে কোন আইনে অভিযুক্তদের সঙ্গে এই আচরণ করা হল, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, পুলিশ যদি সত্যিই এমন কাজ করে থাকে, তবে তা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার সন্ধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ বছরের এক তরুণ তাঁর ১৯ বছরের বন্ধুকে নিয়ে নাবালিকা প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে সরশুনায় গিয়েছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় ওই তরুণ কিশোরীকে চুম্বন করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি দেখতে পান কিশোরীর মামার এক বন্ধু। তিনি বাড়িতে খবর দিলে উত্তেজনা ছড়ায়। এরপর কিশোরীর পরিবারের লোকজন দুই তরুণকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ আরও, কিশোরীর বাবা ফোন করে ডেকে আনেন প্রেমিক তরুণের বাবাকেও। তিনজনকে বন্দুক দেখিয়ে জামাকাপড় খুলতে বাধ্য করা হয় এবং বাড়ির সামনের রাস্তায় প্রায় ৫০ মিটার ওই অবস্থায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় সরশুনা থানার পুলিশ কিশোরীর বাবা, মামা এবং তাঁদের এক বন্ধুকে গ্রেফতার করে। পরের দিন ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁদের পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন তাঁদের পরনে ছিল শুধু হাফ প্যান্ট, কোমরে দড়ি এবং খালি পা। প্রায় ১০০ মিটার এই অবস্থায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ নিয়েই আপত্তি তুলেছে মানবাধিকার কমিশন।