ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি নবান্নে স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ধরনের হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মান নিয়ে আর কোনও শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী কিছু সরকারি নির্দেশিকাও জারি করেছেন এবং কড়া ভাবে সেই নিয়ম পালনের কথাও জানিয়েছেন।
আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে তরুণ চিকিৎসক-ছাত্রীর মৃত্যুর পর থেকে হাসপাতাল এবং চিকিৎসা কেন্দ্রের ঘটে যাওয়া একের পর এক ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। এক বছর আগে আর কর মেডিক্যাল কলেজ ধর্ষণ কান্ডে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তাওকে বড়সর প্রশনের মুখে ফেলেছিল। তার এক বছরের মধ্যেই উলুবেড়িয়ায় কর্মরত মহিলা ডাক্তারকে প্রকাশ্যে ধর্ষনের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সামনে সেছিল। গত বৃহস্পতিবার ফের কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন, অথবা দুর্গাপুরে ডাক্তারি ছাত্রী উপর গনধর্ষণের ঘটনা বাংলায় চিকিৎসা প্রাঙ্গনে মহিলা নিরাপত্তার খারাপ দিকটি উন্মুক্ত করে। সমস্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমার অধীনে এত কিছু ঘটছে কেন? এর পেছনে কোনও ষড়যন্ত্র আছে কি?”
চিকিৎসা প্রাঙ্গনে ঘটে যাওয়া অপরাধের সমাধান করতে শনিবার মুখ্য সচীব মনোজ পন্থ একটি বৈথকের আয়োজন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সেই বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহন করেন। বর্তমানে রাজ্যের স্বাহ্য দফতরের মন্ত্রীত্ব সামলাছেন খোদ মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেইমত চিকিৎসা প্রাঙ্গনে নিরাপত্তার দায়ভার সরাসরি তাঁর উপরই বরতায়। শনিবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, হাসপাতালগুলিতে কর্মরত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের পরিচয়পত্র এবং তাদের অতীত সম্পর্কে স্থানীয় থানায় তথ্য জমা দিতে হবে। নিরাপত্তারক্ষীদের কোনও অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। সেই সঙ্গে হাসপাতালের ভেতর ও বাইরে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশও দেন তিনি। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে হাসপাতাল কতৃপক্ষের তরফ থেকে। হাসপাতাল চত্বরে যথেষ্ট সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। নিরাপত্তা রক্ষীরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন এবং আগত রোগী ও আত্মীয়দের প্রবেশে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে হাসপাতাল চত্বরে।
প্রসঙ্গত সরকারি হাসপাতাল গুলিতে বেশিরভাগ সময় কোনো বেসরকারি সংস্থা থেকেই নিররাপত্তা রক্ষীদের নিয়োগ করা হয়ে থাকে।হাসপাতালের বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্তা জানিয়েছেন, “আরজিকরের ঘটনার পর থেকেই জেলা হাসপাতালের সমস্ত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের বিস্তারিত তথ্য থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিচয়পত্র ও পূর্ব ইতিহাস যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।”
এই প্রসঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক মোহাম্মদ ইউনুস জানান, “পুজোর আগেই অতিরিক্ত বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগের মঞ্জুরি পাওয়া গেছে। খুব শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৫৮ জন নতুন নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করা হবে।” তিনি আরও বলেন, রাজ্যের নির্দেশ অনুসারে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে নজরদারি ব্যবস্থা শক্ত করা হচ্ছে, যাতে রোগী, চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানা গেছে, শীঘ্রই জেলার হাসপাতালগুলিতে সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রশাসনের ধারণা, এই পদক্ষেপগুলির ফলে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা বা অনভিপ্রেত ঘটনা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।
