ফের পুলিশ হেফাজতে রহস্য মৃত্যুর অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানা। সূত্রের খবর, ২০ বছরের এক অভিযুক্ত থানার শৌচাগারে পরনের পোশাক দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যু হয় যুবকের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে পুলিশ হেফাজতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ, মেরে ফেলা হয়েছে তাঁকে।
জানা যাচ্ছে, একটি চুরির মামলায় রাহুল রুইদাস নামে বছর কুড়ির ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বাড়ি চন্দ্রকোনারই বগেশ্বরপুর এলাকায়। গ্রেফতারির পর তাঁকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু তার মধ্যেই যে এতবড় ঘটনা ঘটে যাবে, তা কল্পনা করতে পারেননি অনেকেই। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার থানার শৌচাগারে গিয়েছিলেন রাহুল। সেখানেই পরনের প্যান্ট দিয়ে গলায় ফাঁস দেন যুবক। পরে আওয়াজ পেয়ে শৌচালয়ের ভিতর ঢুকে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিয়ে যাওয়া হয় চন্দ্রকোনা গ্রামীণ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।
অন্যদিকে যুবকের পরিবার অন্য দাবি করছেন। তাঁদের অভিযোগ, মেরে ফেলা হয়েছে রাহুলকে। এই বিষয়ে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে মৃতের ভাই। বলেন, ‘আমার দাদাকে মেরে দিয়েছে। একজন পুলিশ বলছে, প্যান্টের দড়ি গলায় দিয়েছে। আর একজন পুলিশ বলছে, মাথা ঠুকেছে। দুই পুলিশ দুইরকম কথা বলছে।’ ফলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে তৈরি হচ্ছে ধোঁয়াশা।
প্রসঙ্গত, এর আগেও জেল হেফাজতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল ছড়িয়েছে রাজ্যে। গত অগাস্টে কাঁচরাপাড়া পুরসভার পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের স্বামীর মৃত্যু হয়েছিল পুলিশি হেফাজতে। সেক্ষেত্রেও পরিবারের তরফে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ তোলা হয়। পুলিশের গাফিলতির কথা স্বীকার করে নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও।