ওঙ্কার ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর সামনে এল। মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ২ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এর ফলে ডিএ-র হার বেড়ে ৫৮ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে পৌঁছল, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের আয়ে।
শনিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়। কেন্দ্রের এই ঘোষণায় প্রায় ৫০ লক্ষের কাছাকাছি কর্মচারী এবং ৬৫ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগী উপকৃত হবেন বলে জানা গিয়েছে। শুধু কর্মরত কর্মচারীরাই নন, অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ডিয়ারনেস রিলিফ বা ডিআর-ও একই হারে বাড়ানো হয়েছে, ফলে তাঁদের মাসিক পেনশনেও বৃদ্ধি ঘটবে।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই বর্ধিত ডিএ কার্যকর ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ, জানুয়ারি থেকে ঘোষণার আগের সময় পর্যন্ত বকেয়া অর্থও কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা এককালীন পাবেন। ফলে সামগ্রিকভাবে হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণ কিছুটা বেশি হবে, যা বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির বাজারে স্বস্তি এনে দিতে পারে।
ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা মূলত সরকারি কর্মীদের বেতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা যাতে খুব বেশি কমে না যায়, সেই উদ্দেশ্যেই বছরে সাধারণত দু’বার জানুয়ারি ও জুলাই এই ভাতার হার পুনর্বিবেচনা করা হয়। কেন্দ্রীয় সরকার ভোক্তা মূল্যসূচকের ভিত্তিতে এই হার নির্ধারণ করে থাকে।
এই ২ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে কর্মচারীদের বেতনে সামান্য হলেও বৃদ্ধি ঘটবে। নিম্নস্তরের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি কয়েকশো টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, উচ্চ বেতনের কর্মীদের ক্ষেত্রে তা কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। যদিও অনেক কর্মচারী সংগঠন এই বৃদ্ধিকে তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করছে, তবুও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের দাবি ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, ডিএ বৃদ্ধির পাশাপাশি বেতন কাঠামোয় সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।