নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া:-ফিল্মি কায়দায় চলন্ত লরির সামনে বাইক দাঁড় করিয়ে গরু পাচার রুখলেন প্রাক্তন সেনাকর্মী কেসবি নাগার। সূত্রের খবর, রাতের অন্ধকারে বেশ কয়েকজন পালিয়ে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে দু’জনকে ধরে ফেলেন তিনি। এরপর ওই দুই অভিযুক্তকে নিয়ে গরুবোঝাই লরি চালিয়ে নিজেই সোজা থানায় যান নাগার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রাক্তন সেনা কর্তা হলেও এলাকায় একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী হিসাবে পরিচিত নাগার। জানা গিয়েছে, কোতুলপুরের বিজেপি মণ্ডল সভাপতি তিনি। অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে দেশড়া-কোয়ালপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের পুয়োলগেড়ে গ্রাম থেকে একটি লরি করে গরু পাচারের চেষ্টা করছিল কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেই খবর কানে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেন নাগার। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছোনোর আগেই নিজে গিয়ে লরি দাঁড় করিয়ে পাচার বানচাল করেন।
প্রাক্তন সেনাকর্মীর অভিযোগ, লরিটি তাঁর বাইকে ধাক্কা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। অল্পের জন্য রক্ষা পান তিনি। এরপরই পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। প্রাক্তন সেনাকর্মী নিজের বুলেট বাইকটি সটান লরির সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে জরুরি ব্রেক কষে লরিটি দাঁড় করায় চালক। লরিটি থামতেই গাড়ির দিকে ছুটে যান মণ্ডল সভাপতি ও তাঁর সঙ্গীরা। অভিযোগ, তখনই রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে লরি থেকে বেশ কয়েকজন নেমে পালিয়ে যায়। তবে দু’জনকে জাপটে ধরে ফেলেন মণ্ডল সভাপতি। এরপর গরুবোঝাই লরিতে ওই দুই ব্যক্তিকে বসিয়ে নিজেই লরির স্টিয়ারিং হাতে নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওনা দেন মণ্ডল সভাপতি।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। পুলিশ লরি ও গরুগুলি নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার পর মণ্ডল সভাপতি ও তাঁর দলবল কোতুলপুর নেতাজি মোড়ের একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। সেই সময় আরও চারজন ব্যক্তি সেখানে এসে আরামবাগ যাওয়ার রাস্তা জানতে চান। অভিযোগ, তাঁদের কথাবার্তা শুনে মণ্ডল সভাপতি বুঝতে পারেন, এই ব্যক্তিরাই সম্ভবত লরি থেকে পালিয়ে যাওয়া গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। এরপর তাঁদের আটকে রেখে ফের পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ওই চারজনকেও আটক করে। অর্থাৎ, পুরো ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে ১২টি গরু এবং পাচারে ব্যবহৃত একটি লরি।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের দাবি, তিনি উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসত থেকে কোতুলপুরে গরু কিনতে এসেছিলেন। গরু কিনে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে গরু কেনা বা পরিবহণের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে কোনও বৈধ নথি ছিল না বলে জানা গেছে। সবমিলিয়ে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোতুলপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা আদৌ গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত কি না এবং এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।