অঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
এবার মাস্টার নামে না সরাসরি ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারকে নাম সরাসরি লাল হলুদের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার ওরফে নীতু সরকারের নাম উল্লেখ করেন পোস্ট আইএসএল জয়ী লাল হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজোর। ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের উদ্দেশে একটি বিবৃতি দেন অস্কার। শুক্রবার মধ্যরাতে দুইতার বিবৃতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।
ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘ইস্টবেঙ্গল, তার ইতিহাস, তার রং বা তার সমর্থকদের সঙ্গে আমার কখনও কোনও মতবিরোধ ছিল না। যারা সত্যিকারে ক্লাবকে ভালবাসেন, এবং চান দলের স্বার্থেই ফুটবল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক, তাঁদের আমি সবসময় সম্মান করব। আমি চুক্তি নবীকরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অন্যত্র নিজের কেরিয়ার চালিয়ে যাওয়ার পর থেকে আমাকে হেয় করার উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ধারাবাহিক প্রচার লক্ষ্য করেছি। আমার ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পরও এই আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। এখন সেটা আমার বর্তমান ক্লাব ভায়াংকারা প্রেসিসি লামপুং এফসির প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। এর স্পষ্ট উদ্দেশ্য আমার পেশাদার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা.সমালোচনা ফুটবলেরই অঙ্গ, আমি সেটা মেনে নিই। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, অজ্ঞাতপরিচয় বা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট থেকে বারবার একই ধরনের প্রচার এবং একটা অভ্যন্তরীণ বিবাদকে অন্য একটা ক্লাবের মধ্যে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ আলাদা। এই বার্তাগুলোর সময়, বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে আমার বিশ্বাস, এই ঘটনা নীতু দার নেতৃত্বাধীন ক্লাবের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। কার্যত যিনি ক্লাব চালান, সেই নীতু দার কাছেই আমি জানতে চাই, এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত কেউ এই আক্রমণগুলোকে উৎসাহ দিচ্ছেন, নির্দেশ দিচ্ছেন বা এর থেকে কোনওভাবে লাভবান হচ্ছেন কি না।’
বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতের মাধ্যমে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, এই ঘটনার সঙ্গে ক্লাবের কোনও সম্পর্ক নেই। কোনওভাবেই এর সঙ্গে ক্লাব জড়িত নয়। এবার সেই নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইএসএল জয়ী কোচ। অস্কার বলেন, ‘আমি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই পার্থক্যটা তুলে ধরছি। আমি যে পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছি, তার ভিত্তিতে আমার মূল্যায়নের কথাই বলছি। বট, ভুয়ো অ্যাকাউন্ট বা অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত প্রোফাইল সম্পর্কে কোনও যাচাই না করা দাবিকে তথ্য হিসেবে তুলে ধরছি না। নীতু দা এবং ক্লাব যদি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টা অস্বীকার করেন, তাহলে তাঁদের সেটা স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। ইস্টবেঙ্গলের নাম ব্যবহার করে চালানো ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধ করতে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন আমার দায়িত্ব ছিল দল এবং ক্লাবের প্রতি। কোনও ব্যক্তি, লবি, ব্রোকার বা অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীর প্রতি নয়। ফুটবলার এবং স্টাফরা একসঙ্গে খেলাধুলার ক্ষেত্রে একটা পরিবেশ তৈরি করতে, ড্রেসিংরুমকে সুরক্ষিত রাখতে এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে কাজ করেছিলেন। সমর্থকদের সমর্থনে আমরা ২২ বছর পর একটা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলাম। সেই সাফল্য ফুটবলার, স্টাফ, সমর্থক এবং তাঁদের সকলের, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে ইস্টবেঙ্গলকে রেখেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে আর কাজ চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত ইস্টবেঙ্গলকে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং আমার উপলব্ধি ছিল, এমন পরিস্থিতিতে এই স্পোর্টিং প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যেখানে অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপ এবং স্বল্পমেয়াদি স্বার্থ একটা বড় ক্লাবের এগিয়ে যাওয়ার পথে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের নিজেদের একটা সহজ প্রশ্ন করা উচিত, এই দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখলে কার লাভ? তাঁদের আরও প্রশ্ন করা উচিত, কেন স্বাধীনভাবে কাজ করলে বা ক্লাব ছেড়ে দিলে তাঁকেই শত্রু হিসেবে তুলে ধরা হয়? এই বিবৃতি নীতু দা বা অন্য কাউকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্য নয়। এটা জবাবদিহি চাওয়া। পাশাপাশি ব্যক্তিগত হেনস্তার অবসানের আবেদন। সমর্থকদের উচিত প্রত্যেক পক্ষের কাছে, আমার থেকেও তথ্য এবং প্রমাণ চাওয়.ইস্টবেঙ্গলে আমার অধ্যায় শেষ হয়েছে। আমরা যা অর্জন করেছি, তার জন্য আমি গর্বিত। পেশাগতভাবে আমি এগিয়ে গিয়েছি। ক্লাবের সঙ্গে লড়াই করার কোনও আগ্রহ আমার নেই। তবে যখন আক্রমণাত্মক মন্তব্য আমার নতুন কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করার অধিকার আমার আছে। সত্যিকারের ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রইল। ক্লাবকে রক্ষা করুন। পেশাদারিত্বের দাবি তুলুন। প্রত্যেক দাবিকে প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করুন।’