ওঙ্কার ডেস্ক: দেশের বিশিষ্ট ১৪ মুসলিম ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। দেশের একাধিক রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। সেই আবহে আচমকা মুসলিম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কী কারণে সাক্ষাৎ তা নিয়ে চর্চাশুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে ভারতের ঐক্য এবং সংহতি নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার যে সবার উন্নয়ন এবং সবার ধর্মীয় বিশ্বাসকে মর্যাদা দেয় তা বোঝানোর জন্য এই বৈঠক হতে পারে। সপ্তাহখানেক আগে ওই বৈঠক হলেও তা প্রকাশ্যে এসেছে সম্প্রতি। যে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সেই দলে ছিলেন সাংবাদিক, চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রথম সারির মুসলিম ব্যবসায়ীরা। যে ছবি প্রকাশ্যে এসেছে তাতে দেখা গিয়েছে দোভালের সঙ্গে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদ জাফর সারেসওয়ালা, জার্মান স্টিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এনামুল হক ইরাকি, জার্মান স্টিলের সিইও ইব্রারুল হক ইরাকি, কেপি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফারুখ প্যাটেল, জিএলএস সুইচগিয়ারের ডিরেক্টর জাফর লরি, নিটন ভাল্ভসের সিইও জুনেইদ শরিফ, দাউদি বোহরা মুসলিম সমাজের নেতা জামাত আলতাফ সাদিকোট, আঞ্জুমান-ই-ইসলাম কমিটির সভাপতি জাহির হোসেন, হাজীর হাফিজ ও ইন্ডিয়ান কমিউনিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ছিলেন পরিবেশ কর্মী সাহের ভামলা, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাইমা খাতুন, এইমসের চিকিৎসক নিশাত হোসেন এবং সাংবাদিক সামিনা শেখ।
সূত্রের দাবি ওই বৈঠকে দোভাল সরকারের আনা বিভিন্ন পদক্ষেপে মুসলিমদের সহযোগিতা চান। জাফর সারেসওয়ালা ওই বৈঠক নিয়ে বলেন, ‘দোভাল আমাদের সবার কথা খুব মন দিয়ে শুনেছেন। তিনি বৈঠকে বলেন, ভারত একটা জাহাজের মতো। আমরা এগোলেও একসঙ্গে এগোব। ডুবলেও একসঙ্গে ডুবব।’ বৈঠকে ইতিবাচক বলে তাঁর দাবি। তবে কেন হঠাৎ মুসলিম বিশিষ্ট জনকে এই বৈঠক দোভালের তা নিয়ে জোর চর্চাশুরু হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, আগামী দিনে কি দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করতে চাইছে মোদী সরকার ? আর তার জন্য কি আগাম মুসলিম মন পেতে সচেষ্ট হয়েছে কেন্দ্র?