ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২১-এর বিধানসভা ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার হত্যা মামলায় বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত। শুক্রবার প্রাক্তন এসি ও তৎকালীন নারকেলডাঙা থানার ওসি শুভজিৎ সেন-সহ চার অভিযুক্তকে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে প্রধান অভিযুক্ত শুভজিৎ সেন এবং তাঁর সহযোগী সুজাতা দেরও।
শুনানির সময় আদালত কড়া মন্তব্যে বলে, ‘‘রক্ষকই যদি ভক্ষক হন, সমাজের ভবিষ্যৎ কী?’’ বিচারক আরও প্রশ্ন তোলেন, নিহত অভিজিতের মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের বিষয়টি তদন্তকারী অফিসারকে না জানিয়ে কেন সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন শুভজিৎ সেন?শুধু শুভজিৎ নন, তৎকালীন সাব-ইন্সপেক্টর রত্না সরকার এবং হোমগার্ড দীপঙ্কর দেবনাথকেও জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে ফের তীব্র সুরে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘২০২১-এর ভোটের ফল ঘোষণার পর সারা রাজ্যজুড়ে যে সন্ত্রাস চালানো হয়েছিল, অভিজিৎ সরকার হত্যাকাণ্ড তার জ্বলন্ত উদাহরণ”। তিনি এক্সে পোস্ট করে রাজ্যের শাষক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি আরও বলেন, “ভোট-পরবর্তী হিংসায় বহু বিজেপি কার্যকর্তারা প্রাণ হারিয়েছেন, মহিলাদের সম্ভ্রমহানি করা হয়েছে, লক্ষাধিক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছিলেন, ও অনেকেই ভিন রাজ্যে শিবিরে আশ্রয় নেন”।
প্রসঙ্গত, অভিজিৎ সরকারকে গলায় তার পেঁচিয়ে ও বেধড়ক মারধর করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রথমে স্থানীয় থানাই তদন্তের দায়িত্বে থাকলেও পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। ইতিমধ্যেই তিন দফায় চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সর্বশেষ চার্জশিটে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (বস্তি উন্নয়ন) স্বপন সমাদ্দার ও কাউন্সিলর পাপিয়া ঘোষের নাম রয়েছে। সেইসঙ্গে শুভজিৎ সেন এবং রত্না সরকারের বিরুদ্ধেও হত্যায় প্রত্যক্ষ ভূমিকার অভিযোগ এনেছে সিবিআই।
