
নয়ন বিশ্বাস রকি
শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশে ঈদের সেই চিরচেনা আনন্দ, উৎসাহ আর উদ্দীপনা যেন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা আর অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অন্তরের স্বাভাবিক আবেগ প্রবণতায় কোথায় যেন বাধা পড়ছে। তাই স্বতঃস্ফূর্ত প্রীতি বিনিময়েও স্পর্শ করছে না অতীতের উন্মাদনা। কারণ জনজীবনে ছন্দ কাটছে নাগরিক স্বাছন্দ্য।
- নারী নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নবিদ্ধ
একসময় নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নারী নিপীড়ন, গৃহবন্দী করার অপচেষ্টা এবং আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও স্বাধীন চলাফেরা আগের মতো নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন অনেকে।
- রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক বর্তমানে মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার বলে দাবি করা হচ্ছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। বিরোধী মত দমনের পরিবেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশের অধিকার সীমিত হয়ে পড়েছে।
- আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক অস্থিরতা
সারা দেশে শিশু হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে বলে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। সড়ক অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। ঈদের সময়েও এসব অপরাধের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
- স্বাস্থ্য সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৫০০-মারা গিয়েছে এর বেশি শিশু আক্রান্ত হলেও বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী সংখ্যাটা আরও বেশি। একইসঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ফলে ঈদের বাজারে মানুষের আগ্রহ ও সক্ষমতা দুটোই কমেছে।
- রাষ্ট্রযন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা
অনেকেই বলছেন, বর্তমানে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রযন্ত্র নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সত্য প্রকাশ কঠিন হয়ে পড়েছে। “আইনের শাসন”-এর বদলে “অপশাসন” চলছে বলে অভিযোগ উঠছে।
- জনমনের আকাঙ্ক্ষা
এই পরিস্থিতিতে বহু মানুষ মনে করছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারা বজায় ছিল। নারীর নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন সেই সময়ের বড় অর্জন ছিল বলে তারা মনে করেন। তাই দেশের মানুষ চায় শেখ হাসিনা দ্রুত দেশের হাল ধরুক এবং বাংলাদেশ আবার শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে ফিরে আসুক।
ঈদ সবার জন্য আনন্দের উৎসব হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ৭০-৮০% মানুষের জন্য ঈদ হয়ে উঠেছে শুধুই দায়িত্ব পালনের দিন। দেশের মানুষ চায় অরাজকতা, দুঃশাসন ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি। তারা বিশ্বাস করে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আবার মায়ের কোলের মতো নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠবে।