নিজস্ব প্রতিনিধি, মল্লিকপুর : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের মল্লিকপুর এলাকা থেক আবারও ধরা পড়ল অবৈধ অনুপ্রবেশের চিত্র। মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে নদী পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছিলেন লকিন তাতি নামে এক বাংলাদেশি । ভারতে পা রাখার পর আরও দুই হাজার টাকা খরচ করে সে জোগাড় করে ফেলেছিল ভারতীয় আধার কার্ড। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বারুইপুর থানার পুলিশ মঙ্গলবার সকালে এলাকায় অভিযান চালিয়ে লকিনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে লকিন জানায়, ছমাস আগে সীমান্ত দিয়ে দালালের সাহায্যে সে ভারতে আসে। কে বা কারা ভারতীয় নথি বানিয়ে দিত। সমস্ত বিষয় তদন্ত শুরু করে দিয়েছে বারুইপুর থানার পুলিশ। লকিনের কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ আধিকারিকরা।
যদিও এ ঘটনা নতুন নয়। কয়েক দিন আগেই একই এলাকা থেকে সুমন গাইন, বাহারুল মন্ডল, আব্দুল রহমান সর্দার সহ আটজন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করেছিল নিমতা থানা। তাদেরও আশ্রয়দাতা ছিল ভারতীয় শহিদুল ইসলাম। ধৃতদের একজনের বক্তব্য থেকে জানা যায়, দালালকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ভারতে ঢুকে কুড়ি হাজার টাকায় আধার ও প্যান কার্ড বানিয়েছিল সে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় দালালচক্র রাতের অন্ধকারে নদীপথে লোক পারাপার করে। এরপর স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে জাল নথি তৈরি করে দেওয়া হয়। এই জাল আধার-প্যান ব্যবহার করে অনুপ্রবেশকারীরা সহজেই ভারতের নাগরিক সুবিধা ভোগ করে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলে এবং ধীরে ধীরে সমাজের সঙ্গে মিশে যায়। তেমনি মল্লিক পুরের ঘটনায় বারুইপুর পুলিশ জেলার আধিকারিক জানিয়েছে, ধৃত কে আদালতে তুলে হেফাজতে নিয়ে পুরো চক্রের জাল কতদূর ছড়ানো তা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে জাল নথি তৈরির মূল পাণ্ডাদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফও নজরদারি আরও জোরদার করেছে। মল্লিকপুরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, কাঁটাতারের বেড়া পেরোনো এখন শুধু ঝুঁকির ব্যাপার নয়, পুরোটাই টাকার খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে।