প্রতীতী ঘোষ, ব্যারাকপুর : ব্যারাকপুরের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলিতে সারা বছরই ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। শীতের সময় দর্শনার্থীদের বাড়তি উৎসাহকে কাজে লাগাতে এবার উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের আকর্ষণ বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জোর কদমে চলছে তার প্রস্তুতি।
শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে পিকনিক বা ছুটিতে কাছেপিঠে ঘুরতে যান অনেকেই। এদিক থেকে কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলা উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুর হল অন্যতম পছন্দের জায়গা। ব্যারাকপুর এলাকার যেমন ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি রয়েছে এর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট। গঙ্গা লাগোয়া গাছগাছালির মধ্যে মনোরম পরিবেশ, এখানে ওখানে ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং তুলনামূলক নিরিবিলি জায়গা যা এক বেলা বা একদিনের জন্য খুবই উপযুক্ত। বাজেটও থাকে হাতের মুঠোয়। তাই ব্যারাকপুরকে বাংলার পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের পর্যটন দফতর। সুযোগ সুবিধা বাড়লে পর্যটকের আনাগোনা বাড়বে, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পর্যটন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও লাভবান হবেন। এই পরিকল্পনার তত্বাবধানে আছেন ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসক সৌরভ চ্যাটার্জী। সম্প্রতি ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক ঐতিহাসিক পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেন তিনি। মহকুমা শাসক বলেন, “ব্যারাকপুর একটি ঐতিহাসিক শহর। বহু স্মৃতি বিজড়িত এই শহরের পর্যটন গুরুত্ব রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যটনস্থল উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
গঙ্গা বরাবর ব্যারাকপুরে রয়েছে অনেকগুলি ঘাট। যেমন- গান্ধীঘাট, রানী রাসমণি ঘাট, মঙ্গল পান্ডে ঘাট। এছাড়া রয়েছে রামপ্রসাদ ভিটে, বঙ্কিম ভবনের মতো ইতিহাস বিজড়িত জায়গা, যা পর্যটকদের মন জয় করে। তাই সেখানে পর্যটকদের আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ দিতে বেশকিছু ব্যবস্থা নিতে চায় প্রসাশন। এছাড়াও ঐতিহাসিক স্থান ব্যারাকপুর গান্ধী ঘাট ও তার সংলগ্ন এলাকাকে দৃশ্যসুন্দর করে তুলতে ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে সবুজায়নের। তাই ইতিহাসে, নৈসর্গে পর্যটকদের কাছে নবরূপে সেজে উঠছে ব্যারাকপুর।
