রূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
তুমি চলে যাচ্ছো,
আমার জেদগুলি সোনাঝুরির পাতার মতো
টপটপ করে খসে পড়ছে ব্যর্থ অবয়বে।
হ্যাঁ। সুগন্ধী গায়ে মাখবার সময় হলেও,
ছায়াদের দীর্ঘতার কাছে আমাদের আশাগুলি
ছোট্ট হয়ে আসে।
তুমি চলে যাচ্ছো,
আর আমি আমার যাবতীয় দু:খের লাইনগুলি
একে একে লিখে ফেলতে পারি আজ।
আমি মহিরুহর কাছে গিয়ে দেখেছি,
এই অসীম ধৈর্যের বাঁধ,
আমাদের আসলে, “প্রতিবন্ধী” নামে পরিচয় করিয়ে দেয়
অরণ্যের কাছে,
আর সবকটি গাছ হাসাহাসি করে,
প্রতিটি গানপাখির,
উড়ে চলে যাবার পর।
আমাদের রঙের পাখিগুলি আজ
উড়ে চলে যাচ্ছে।
তবু বন্ধ হচ্ছে না কোলাহল,
ঠোঁটে তাদের নতুন ঘরের খড়কুটো,
আমি বাঁশিতে সুর মিলিয়েছিলাম দু’চার মিনিট।
স্তম্ভগুলি খসে পড়ে গেলে, আসলে আমাদের কেউ বলেনি,
অনেক তর্কের পরে, গানবাজনা হওয়া দরকার।
তুমি চলে যাচ্ছো,
আর রাত্তিরবেলায় জীবনের প্রকান্ড সূর্যেরাও ক্ষুদ্র হয়ে
রাতের তারা হয়ে যায়।
ওরা যেন আমার থেকে অনেকখানি দূর
তেপান্তরের মাঠ,
তোমার নদী তোমার সমুদ্দুর,
আমি এখন তেপান্তর ভরিয়ে তুলতে
মহিরুহদের ডাক দিই,
অথচ বাতাসে তাদের উল্টোদিকে ডাকে-
ছোট্টবেলার মোহনবাঁশির সুর।