বেদনার বোধন
জয়তী চক্রবর্তী দাশগুপ্ত
বলেছিলাম, “তোমাকে চিনি না, জানি না, বুঝতেও পারি না,”
অথচ, তোমাকে ছুঁয়ে থাকা
গাঢ় অন্ধকারের মতো মনখারাপটাকে
কী করে চিনে নিয়েছিলাম ?
তুমি আশ্রয় চেয়েছিলে,
না কি আমিই আশ্রয় পেয়েছিলাম তোমার কাছে—
তারও সদুত্তর নেই আমার।
তবে এটুকু জানি,
বেদনার মতো সংক্রামক অসুখ
আর হয় না পৃথিবীতে।
তোমার মনখারাপগুলো
নিঃশব্দে ছুঁয়ে গিয়েছিল আমাকে।
তোমার ভ্রুকুঞ্চন, থরথর ঠোঁটের দিকে
তাকিয়ে থাকতেও কষ্ট হতো।
সেই রিনরিনে যন্ত্রণার রেশ
বয়ে চলেছি আজও—
হয়তো আমরণ।
তুমি বলেছিলে,
“পুরুষের চোখে জল শোভা পায় না।”
অথচ, কী আশ্চর্য!
আমার চোখের জলের শোভাই
তুমি দেখতে চেয়েছিলে!
তবু, অবশেষে
বেদনাকে বোধনায় রূপান্তরিত করেছি।
সেই রিনরিনে যন্ত্রণাগুলোই
অন্তর খুঁড়ে বারবার তুলে এনেছে
মণি-মুক্তোর মতো অমূল্য উপলব্ধি।
হেরে যেতে যেতেও
শক্ত মুঠিতে আগলে রেখেছি
আমার একান্ত আপন,
আমাদের সঙ্গোপনের সংসার-
যেখানে বেদনা শুধু ক্ষত নয়,
বেদনা এক অনন্ত জাগরণ।