জল
অজয় চক্রবর্ত্তী-কলকাতা
ভাঙা শানের ঘাট,
দুরে জীর্ণ একটি অশোকের গাছ,
ওই যে মেঠো বাঁকা পথ,
ওই যে জলসিঁড়ি…
এরা ছিল আমাদের ছেলেবেলা।
হলুদ পা ধলা হাঁস জলে নামে
জল…সবটুকু জানে,
বোঝে ঐকল্য
জলে হাত রেখে নির্মোক হই মাঝে মাঝে
ঘরচিতি’ সাপের মতো।
বলেছিলাম একদিন
কদমগাছের থেকে ভেসে আসা সুর
তুমি শুনতে পাও ?
উত্তরে বলেছিলে
আমি অশোকের বিজনতা ভালোবাসি ,
কত সহজেই তুমি
দ্বাপর থেকেই ত্রেতায় ফিরে যাও।
চৈত্রের শেষ বিকেলে ওরা কারা !
নকল পোশাক,নকল দাড়ি
নকল স্তন পরে খায় বিড়ি,
দলবেঁধে আনন্দ বিলায় হরগৌরী
বাবা ফুলেশ্বরের চরনের সেবালাগু মহাদেব।
গোধুলীর রঙ মেখে
জল ছুঁয়ে বলি
আজও মেঘ’ ভালোবাসি….
কেউ যদি কখন আসে এই ঘাটে একাকী
তাকে তোমার শীতল স্পর্শটুকু দিও,
মুসলমান পাড়া থেকে ভেসে আসে আজানের সুর
হাঁস নয়, মেঘের পালক নিয়ে আজ তবে আসি
যেতে হবে বহুদুর….