বাবলু প্রামানিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙ্গড় ২ নম্বর ব্লকের পাচুরিয়া ধর্মতলা এলাকায় রামসার স্বীকৃত ওয়েটল্যান্ড বা জলাভূমি ভরাট করে গড়ে উঠছে একের পর এক বেআইনি নির্মাণ। পরিবেশ সুরক্ষার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে শুরু হয়েছে এই কংক্রিটের কাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে একটি কোম্পানির তরফে এই নির্মাণ কাজ চলছে এবং কোম্পানির সুপারভাইজারের দাবি, এলাকার প্রভাবশালী এক ব্যক্তি বুল্লা গাজীকে জানিয়েই এই কাজ হচ্ছে। কিন্তু সংবাদমাধ্যম ঘটনাস্থলে পৌঁছাতেই কাজ বন্ধ করে দ্রুত চম্পট দেয় সুপারভাইজার সহ সমস্ত শ্রমিক। ঘটনার খবর পৌঁছেছে ব্যাওতা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত ও স্থানীয় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে। যদিও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শেখ সাবীর আলী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি, তবে ফোনে স্বীকার করে নেন যে, “সব কিছুই বুল্লা গাজী জানেন।” স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্য সরকারের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে জলাভূমির উপর এই ধরনের বেআইনি নির্মাণ সম্ভব?
তথ্য অনুসারে, পরিবেশ দফতরের কাছ থেকে শুধু মাত্র চাষের জন্য মাটি ফেলার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। অথচ সেই অনুমতিকে পাথেয় করে গোপনে চলছে কনস্ট্রাকশনের কাজ। অর্ডার কপিতেও কোথাও নির্মাণের উল্লেখ নেই, স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে “মাটি ফেলে চাষ করা যাবে”, খননের কথাও বলা আছে। তবুও চলছে বহুতল গঠনের প্রস্তুতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশকে ঘুষ দিয়ে এই অবৈধ নির্মাণ কাজ দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। যদিও অভিযুক্ত বুল্লা গাজী তিনি আবার ওই এলাকার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী। সাংবাদিকদের সামনে এসে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন বুল্লা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও পরিবেশ দফতর এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়।
