স্বপ্নের কোনও রং নেই। সাদা আর কালো। নাকি ধূসর। সেই স্বপ্নের কনটেন্ট বা বিষয়বস্তু কিন্তু অনেক সময়তেই সোনালি। কিংবা কখনও কোনও রংয়ের অতীত। সব কিছু ছাড়িয়ে দুটি হাত বাড়িয়ে কিছু জাপটে ধরার নাম স্বপ্ন। যে স্বপ্ন হয়তো ঘুমিয়ে দেখাও যায় না সবসময়। বা স্বপ্নটা আপনাকে আমাকে জাগিয়ে রাখে। স্বপ্নের অভিঘাত আমাদের জীবনের তাই প্রবল হয়ে উঠতে পারে। যার নাম চালিকাশক্তি। আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানোর। এই যেমন সে দিন অনিমেষবাবু একটা স্বপ্ন দেখলেন যে তিনি নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন। ছোটবেলায় লেখালিখির অভ্যেস ছিল। কিন্তু ওইটুকুই। তারপর কর্মের লড়াইয়ে সেই লেখালিখি কবে কোথায় হারিয়ে গিয়েছে যে, ওই রবিঠাকুরের নোবেলচুরির মতো, আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারপর বিয়ের পর, কোনও স্বপ্নই তিনি আর দেখেন না। রাতগুলি শুধুই বিনিদ্র, সকালে বউ ঘুম থেকে উঠবে ভাবলেই মনে হয়, সকাল কেন হয়। সকাল তো রাতের মতোই অন্ধকার হলে ভাল হত!
যাক, এই গল্প আর বাড়াচ্ছি না, এতো অনিমেষবাবুর গল্প। পরে কখনও বলা যাবে। এখন বলি কেন এই স্বপ্ন নিয়ে লেখাটা লিখছি। আসলে এটা একটি বইয়ের রিভিউ। সবুজ স্বপ্ন, ব্ল্যাকবুক-এর বই। অদিতি বণিকের লেখা বইটি এসেছে আমার হাতে, পড়তে পড়তে নিমগ্ন হয়ে পড়ছি। কল্প বিজ্ঞানের গল্প। ১৩টা। তরতরানো। কিন্তু সমাজের ভার। বয়ে এগিয়ে চলেছে। সবুজ স্বপ্ন মানে পৃথিবীটা বাঁচানোর স্বপ্ন। রক্ষার এক আশ্চর্য অঙ্গীকার। ভিন গ্রহের প্রাণীদের নিয়ে এগিয়ে চলা, মনে হতে পারে চারদিকটা ছাড়িয়ে কোথায় যেন চলে যাচ্ছি, যেখানে কোনও কিচ্ছু নেই, শুধু হাজার হাজার তারা, তাদের লক্ষ লক্ষ আলো, তারা আমায় ভালবাসার নীল পতাকার নীচে নিয়ে যাচ্ছে। সবুজ স্বপ্ন না পড়লে একটা খচখচানি থেকে যেত আজীবন, বুঝতে পারছিলাম। হাড়ে হাড়ে।
বিবেকানন্দ দাস
সবুজ স্বপ্ন, অদিতি বণিক
ব্ল্যাকবুক, কলেজস্ট্রিট, কলকাতা ৭৩
২৫০টাকা