ওঙ্কার ডেস্ক: বিপাশাকে স্কুলে সকলে খেপাতো মুচ্ছর সিং বলে। বিষয়টা এমন জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল স্কুল ছাড়তে চেয়েছিল মেয়েটা। মেয়েদের মুখে অবাঞ্ছিত লোম অনেকের কাছেই অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে ঠোঁটের উপরের অংশ, থুতনি, গাল বা চোয়ালের কাছে অতিরিক্ত লোম। তবে চিন্তার কিছু নেই—অবাঞ্ছিত লোম কমানো বা দূর করার জন্য রয়েছে একাধিক নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি।
ঘরোয়া উপায় কি কার্যকর?
হলুদ, বেসন, দই বা চিনি দিয়ে তৈরি প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে,এগুলো ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ রাখতে কিছুটা সাহায্য করতে পারে, কিন্তু তা দিয়ে মুখের লোম স্থায়ীভাবে দূর করা যায় কিনা তার নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।
লোম দূর করার প্রচলিত পদ্ধতি
থ্রেডিং: ভ্রু বা উপরের ঠোঁটের মতো ছোট অংশের লোম তুলতে থ্রেডিং জনপ্রিয়। তবে সংবেদনশীল ত্বকে সাময়িক লালচে ভাব বা জ্বালা হতে পারে।
ফেস শেভিং বা ডার্মাপ্ল্যানিং: পরিষ্কার, ত্বক-উপযোগী রেজর দিয়ে মুখের সূক্ষ্ম লোম শেভ করা যায়। এতে লোম মোটা হয়ে যায়—এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। তবে কাটাছেঁড়া ও ত্বকে জ্বালা এড়াতে পরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহার জরুরি।
হেয়ার রিমুভাল ক্রিম: মুখের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্যবহারের আগে প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে প্যাচ টেস্ট করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কারও কারও ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালা হতে পারে।
ওয়াক্সিং: শিকড়সহ লোম তুলতে সাহায্য করলেও মুখের ত্বকে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। সংবেদনশীল বা ব্রণপ্রবণ ত্বকে সতর্ক থাকা দরকার।
লেজার হেয়ার রিডাকশন: দীর্ঘমেয়াদে লোমের বৃদ্ধি কমানোর জন্য লেজার একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। সাধারণত একাধিক সেশন প্রয়োজন হয় এবং ফলাফল ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত পেশাদারের পরামর্শ নিয়ে করানো উচিত।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি হঠাৎ করে মুখে অতিরিক্ত মোটা ও কালো লোম বাড়তে শুরু করে, অথবা এর সঙ্গে অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত ব্রণ বা শরীরের অন্যান্য অংশে অস্বাভাবিক লোম বৃদ্ধি দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কখনও কখনও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সঙ্গে অতিরিক্ত লোমের সম্পর্ক থাকতে পারে।