ওঙ্কার ডেস্ক: জলপাইগুড়ির মেয়ে বর্ণালী। দিনে তিনবার ভাত মাস্ট। ইদানিং ডায়াবেটিস ধরেছে। ফার্স্টিং ২০০ র ওপরে। অন্তর্জাল ঘেটে বর্ণালী আরও কনফিউজ। তার শান্তির জীবনে ভাত অথবা রুটি কে ভিলেন হয়ে দেখা দিচ্ছে? বর্ণালীর মত ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভাত ও রুটিকে নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। আসলে ডায়াবেটিসে শুধু ভাত বা রুটি কোনটি খাবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং কতটা পরিমাণে, কী ধরনের এবং কীসের সঙ্গে খাচ্ছেন—এগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ সাদা ভাত দ্রুত হজম হয় এবং এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের অতিরিক্ত পরিমাণে সাদা ভাত খাওয়া এড়ানো ভালো। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভাত একেবারেই খাওয়া যাবে না। পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, সঙ্গে পর্যাপ্ত শাকসবজি, ডাল, মাছ বা ডিমের মতো প্রোটিন রাখলে ভাতও খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, আটার রুটি, বিশেষ করে সম্পূর্ণ গমের আটা দিয়ে তৈরি রুটি, সাধারণত বেশি ফাইবারযুক্ত। ফাইবার হজমের গতি কিছুটা ধীর করতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে পারে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রুটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে তুলনামূলক সুবিধাজনক হতে পারে। তবে রুটিও কার্বোহাইড্রেটের উৎস, তাই বেশি রুটি খেলেও রক্তে শর্করা বাড়তে পারে।
ডায়াবেটিক রোগীর জন্য একটি ভালো খাবারের প্লেটে সাধারণত বেশি পরিমাণে নন-স্টার্চযুক্ত সবজি, পরিমিত প্রোটিন এবং নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট রাখা উপকারী। ভাত হলে পরিমাণ কম রাখা এবং সম্ভব হলে লাল/ব্রাউন রাইসের মতো বেশি ফাইবারযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। রুটি হলে সম্পূর্ণ গমের আটার রুটি বেছে নেওয়া ভালো। মোটের ওপর জিভের ওপর আগল রাখাটা খুব জরুরী। পরিমাণ ও ধরন ঠিক থাকলে ভাত এবং রুটি—দুটিই ডায়াবেটিক রোগীর খাদ্যতালিকায় থাকতে পারে। তবে এটি একটি প্রাথমিক ধারণা। একবারটির জন্য ডায়েটিশিয়ান। নিজের ওজন, হাইট অনুসারে খাদ্যতালিকা বানিয়ে নিন।