ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করে তোলার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মূলত রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা, শয্যাসংকট, হাসপাতালের পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় ‘নো রিফিউজাল’ বা রোগী না ফেরানোর নীতি। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়, কোনও রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এলে তাকে অযথা ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। শয্যার অভাব বা অন্যান্য প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে রোগীদের অন্যত্র পাঠানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়। হাসপাতালগুলিকে এমনভাবে পরিষেবা পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে চিকিৎসার অভাবে কোনও রোগীকে হয়রানির শিকার হতে না হয়।
সূত্রের খবর, এসএসকেএম হাসপাতালে সম্প্রতি অতিরিক্ত ১০০টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। তবুও রোগীর চাপ বিবেচনা করে ভবিষ্যতে আরও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে পরিষেবার মান বৃদ্ধি, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা এবং রোগীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বৈঠকে হাসপাতাল চত্বরে সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উঠে আসে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালগুলিতে দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিভ্রান্ত করে আর্থিকভাবে প্রতারিত করার অভিযোগও বারবার সামনে এসেছে। সেই পরিস্থিতি রোধে নজরদারি বাড়ানো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হাসপাতালের বেড ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। কোন বিভাগে কত শয্যা খালি রয়েছে, সেই তথ্য দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। জরুরি পরিষেবার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রোগী পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার প্রস্তাবও উঠে আসে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার সামগ্রিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এই বৈঠকে একাধিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের আশা, এই পদক্ষেপগুলি বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং সাধারণ মানুষ আরও দ্রুত ও সহজে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।