ওঙ্কার ডেস্ক : দার্জিলিংয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধস এবং গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই দুর্যোগে সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
গত রাতে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিংয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে মিরিক এবং সুখিয়া পোখরির মতো এলাকায় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবারই দূর্গত এলাকা পরিদর্শনে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর X মারফত জানিয়েছেন, দার্জিলিংয়ে প্রাণহানির ঘটনায় তিনি “গভীরভাবে মর্মাহত”। “আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সকল সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ভূমিধ্বসের কারণে বাংলা ও সিকিমের সংযোগকারী রাস্তা এবং দার্জিলিং ও শিলিগুড়ির সংযোগকারী রাস্তা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। দুর্গাপূজার পর কলকাতা এবং বাংলার অন্যান্য অংশ থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দার্জিলিং বেড়াতে আসেন। তাই বহু পর্যটক এই দুর্যোগে আটকে পড়েছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন দার্জিলিংয়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার মধ্যে টাইগার হিল এবং রক গার্ডেনও রয়েছে।
টয় ট্রেন পরিষেবাও স্থগিত করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ পরিস্থিতিকে “উদ্বেগজনক” বলে বর্ণনা করেছেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী জানিয়েছেন “এখন পর্যন্ত, মৃতের সংখ্যা ২০। এটি আরও বাড়তে পারে বলে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গুহ । গোর্খাল্যান্ড কর্তৃপক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তা এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজেদের আপডেট রাখতে বলা হয়েছে।
আটকে পড়া পর্যটক এবং বাসিন্দাদের জন্য রাজ্য পুলিশ একটি হটলাইন চালু করেছে, যার নম্বর- 9147889078। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মৃত্যু, সম্পত্তি ও পরিকাঠামোর বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি X-এ জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আমি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি।”

উত্তরবঙ্গের অন্যান্য এলাকা যেমন জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি এবং কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাব পড়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি এলাকায় প্লাবিত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস এর আগে উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছিল। সিকিমের জন্য দুটি লাল সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল। ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে মাঝারি বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিয়েছিল। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই অঞ্চলে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে উত্তরবঙ্গে আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন । এই অঞ্চলের দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে নেপালেও। সেখানেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গত ৩৬ ঘন্টায় নেপালে ২২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
