হরিয়ানার এক মহিলা বিচারক অনলাইন রোম্যান্স প্রতারণার শিকার হয়ে ৫২ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ হারিয়েছেন। ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে শুরু হওয়া একটি সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিশাল আর্থিক জালিয়াতির ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই সাইবার অপরাধ ও অনলাইন প্রতারণা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই বিচারকের পরিচয় হয়। অভিযুক্ত নিজেকে উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক বলে পরিচয় দেয় এবং ধীরে ধীরে বিচারকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কথাবার্তা ও যোগাযোগের মাধ্যমে অভিযুক্ত বিচারকের বিশ্বাস অর্জন করে। পরে বিভিন্ন লাভজনক বিনিয়োগ প্রকল্পের কথা বলে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের জন্য তাঁকে রাজি করানো হয়।
প্রথমে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হলেও, পরবর্তীতে অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে একাধিক দফায় টাকা স্থানান্তর করানো হয়। অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করে বিচারক বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৫২ লক্ষ ৮১ হাজার টাকারও বেশি অর্থ পাঠান বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রতিশ্রুত লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকাও ফেরত পাননি তিনি। এরপরই প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘটনার পর পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং সাইবার প্রতারণার মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে এই প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল। শুধুমাত্র আবেগের সম্পর্ক নয়, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও নানা মিথ্যা তথ্য ও ভুয়ো নথির সাহায্যে বিচারককে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি এই মামলার অন্যতম অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে আদালত জানায়, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া গিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি কেবল সাধারণ প্রতারণার ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে বিশ্বাস অর্জন করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার একটি সুসংগঠিত চক্রের অংশ বলেই মনে হচ্ছে। তদন্ত এখনও চলমান থাকায় এবং আরও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন থাকায় অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হলে তদন্ত প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও আদালত মত প্রকাশ করেছে।