ওঙ্কার ডেস্ক : মঙ্গলবার দুবাইতে রিয়েল এস্টেট দুনিয়ার এক বিপ্লব ঘটে গেল। যেখানে একজন অভিনেতার নামে উন্মোচিত হল ৪,৭০০ কোটি টাকার একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স প্রকল্প। আর সেই অভিনেতা আর কেউ নন, দুবাইর সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা- শাহরুখ খান। কমপ্লেক্সটির নাম- শাহরুখজ বাই ড্যানিউব। ১০ লক্ষ বর্গফুটের এই সুদৃশ্য বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সটি ইতিমধ্যে শোরগোল তুলেছে গোটা বিশ্বে। এবং তা এমন মাত্রায় গিয়ে পৌঁচেছে যে মাত্র দু’ সপ্তাহের মধ্যে ৪৮৮টি বাণিজ্যিক ইউনিটের বুকিং শেষ। এক একটি ইউনিটের দামও তেমন ! সবচেয়ে কম দামের ইউনিটের জন্য ৪ কোটি টাকা। তবে হ্যাঁ, শুধুই তো ব্যবসার জন্য একটা স্পেস নয়, এই কমপ্লেক্সে রয়েছে ৩৫টিরও বেশি সুযোগ সুবিধা। তবে এই চোখ ঝলসানো আয়োজনের মধ্যে একটা ট্র্যাজিক শর্ত রয়েছে, তা হল এই কমপ্লেক্সের কোনো অফিস কিনতে পারবেন না শহরুখ।
৯ ডিসেম্বর এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহরুখ পৌঁছোতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত ৭ হাজাজেরও বেশি মানুষ, যাঁরা বিশ্বের বাণিজ্য দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠা ও ধনদৌলতে নিঃসন্দেহে নজর কাড়া ব্যক্তিত্ব। যত হলে শাহরুখ খানকে আইডল করে এমন একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমপ্লেক্স, দুবাইর মতো জায়গায় তার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আড়ম্বর কেমন হতে পারে তা আঁচ করাটাই এক কাল্পনিক ব্যাপার। এদিন অনুষ্ঠানে শাহরুখ খানের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন ড্যানিউব গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রিজওয়ান সাজান এবং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদেল সাজান।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাণিজ্যিক প্রকল্পটি অপ্রত্যাশিতভাবে আগ্রহের ঝড় তুলেছে। উদ্বোধনের দুই সপ্তাহ আগে চুপচাপ বুকিং শুরু হয়েছিল। মাত্র দু সপ্তাহেই বুকিং ফুল। একেই শাহরুখের নামে এই বিজনেস টাওয়ার, তার উপর কমপ্লেক্স জুড়ে থাকছে অঢেল সুযোগ সুবিধা। যার মধ্যে- একটি স্কাই পুল, ভ্যালেট পরিষেবা, এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ এবং এমনকি ভবিষ্যতের এয়ার ট্যাক্সি সংযোগের জন্য ডিজাইন করা একটি ডেডিকেটেড হেলিপ্যাড। কমপ্লেক্সটি তৈরি হচ্ছে বুর্জ খলিফায়, যা দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গোল্ড সউকের মতো দুবাইয়ের প্রধান ল্যান্ডমার্কের কাছাকাছি। তাই এর চাহিদাও আকাশ ছোঁওয়া।
এর স্থাপত্যে একটি স্পষ্ট স্বাক্ষরও রয়েছে। ২০২৯-এ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নিঃসন্দেহে এটি দুবাইর এক দ্রষ্টব্য স্থান হয়ে উঠবে। প্রবেশপথে থাকবে অভিনেতার একটি মূর্তি। মূর্তিটিও বেশ চমকদার হবে। শাহরুখের সেই জনপ্রিয় বাহু-প্রসারিত ভঙ্গি, যা টাওয়ারটিকে এর বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের বাইরেও একটি সাংস্কৃতিক পরিচয় দেবে।
