ওঙ্কার ডেস্ক: রবিবার বিকেলে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ ও তার লাগোয়া অঞ্চল। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, তার প্রভাব অনুভূত হয় কলকাতাতেও। হঠাৎ এই ঝাঁকুনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ভূতত্ত্ববিদদের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল অসমের ঢেকিয়াজুলি এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৯। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাঝারি গভীরতায় হওয়ায় বিস্তৃত এলাকায় কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গেও তার প্রভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কয়েক সেকেন্ড ধরে প্রবল ঝাঁকুনি চলেছিল। হঠাৎ বিছানা বা চেয়ার কেঁপে ওঠায় আতঙ্কে তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। অনেকেই বলছেন, দুপুরের পর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, সেই সময় হঠাৎ কম্পনে ঘুম ভেঙে যায়। সর্বত্রই মানুষকে উৎকণ্ঠিত ও চিন্তিত অবস্থায় দেখা যায়।
প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে অসম ও অরুণাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি কেমন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত জেলায় পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষত উঁচু ভবন বা দুর্বল কাঠামোর এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মূল কম্পনের পরে ছোটখাটো আফটারশক আসতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনও ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অতীতে উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিকবার শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূত্বকীয় চাপের কারণে এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বরাবরই বেশি। রবিবারের এই কম্পন আবারও সেই আশঙ্কাকেই সামনে এনে দিল।
যদিও আপাতত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই, তবে আতঙ্ক কাটেনি সাধারণ মানুষের মনে। হঠাৎ ঝাঁকুনির অভিজ্ঞতা এখনও অনেককে শিহরিত করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।
