ওঙ্কার ডেস্ক: সকাল থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমলেও দুপুর পর্যন্ত জল নামেনি সেভাবে। অলিগলি তো বটেই, কলকাতার বড় বড় রাস্তাও জলের তলায়। কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটুসমান জল। মঙ্গলবার সাধারণ মানুষকে বাড়ি থেকে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন শহরতলীর মানুষেরা।
কলকাতায় গত কয়েকঘণ্টার টানা বৃষ্টি আর তার পরিণাম এককথায় শিউরে ওঠার মতো। চারদিকে জলমগ্ন পরিস্থিতি। ভয়াবহতা ক্রমশ বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। রেল স্টেশন এলাকায় মেট্রো স্টেশনে জল জমে, রাস্তায় গাড়ি অর্ধমগ্ন অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও বাইক-গাড়ি ডুবুডুবু তো কোথাও জলের তোড়ে মণ্ডপ ভেসেছে। টলিপাড়ার পরিচিত ব্যাক্তিত্বদের ঘরবাড়িও রেহাই পায়নি। সেই ছবি ভিডিও সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে এগিয়ে এসেছেন তারাও। ঠাট্টার মাধ্যমে আশা জুগিয়েছেন, সব ঠিক হয়ে যাওয়ার।
প্রসঙ্গত, শ্রীনন্দা শঙ্কর একাধিক ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে দেখিয়েছেন, তাঁর আবাসনের উঠোন চত্বরে প্রায় এক বুক জল। দাঁড় করানো একাধিক গাড়ির অর্ধেক ডুবে রয়েছে জল। তিনি দেখালেন তাঁদের বাড়ির নাচের ঘরেও ঢুক পড়েছে জল! এবং রীতিমতো ভাসছে সবকিছু!
শিল্পী জানান, তাঁর আজকেই বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা, তবে এহেন পরিস্থিতিতে তার সম্ভব নয়। পাশাপাশি গত রাত থেকে তাঁর বাড়িতে নেই বিদ্যুৎ পরিষেবাও। একইসঙ্গে অবশ্য সাধারণ মানুষদের যথাসম্ভব সতর্ক থাকার অনুরোধ করেছেন শিল্পী।
এছাড়াও, মীর একটি ছোট্ট রিল পোস্ট করেছেন, তাঁর বাড়ির বারান্দা থেকে। নীচে দেখা যাচ্ছে ডুবে রয়েছে গলিপথ, একাধিক গাড়ি। বলাই বাহুল্য, জনশূন্য সেই জলমগ্ন রাস্তা। সেই রীলের মধ্যে স্পষ্ট মীরের রসিকতার ছাপ। অমিতাভ বচ্চন -জিনত আমন অভিনীত জনপ্রিয় ছবি ‘দ্য গ্রেট গ্যাম্বলার’ ছবির বিখ্যাত গান ‘দো লফজোঁ কি ইয়ে…’ গান!
অন্যদিকে, রাণা সরকার নিজের বাড়ি অথবা অফিসের সিঁড়ির একটি ছোট্ট রিল পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টির জল ঝরনার মতো তীব্রবেগে পড়েই চলেছে। রিলের সঙ্গে অবশ্য রাণা লিখেছেন, ” এইমুহুর্তে কলকাতার সবথেকে সুন্দর সাউণ্ড স্টুডিও এটাই!”
তবে বৃষ্টি থেমে গেলেও, শহরের দুর্দশা এখন তুঙ্গে। গোটা কলকাতায় জল জমার ফলে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে কলকাতা যেন এখন ভয়ের স্মৃতিশহর।
