নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বর্ষা নেই, ধু-ধু করে শুকিয়ে যাচ্ছে মাটি। বৃষ্টি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের শ্রমিক ও কৃষকেরা। চা-পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে গাছে, নতুন কুঁড়িও আসছে না। চাষের জমিতে ধান রোপার মতো জল নেই। পরিস্থিতি এমনই রূক্ষ যে, ডুয়ার্সের মথুরা চা-বাগানের শুক্রালাইন এলাকায় আয়োজিত হল ব্যাঙের বিয়ে বৃষ্টির জন্য।
বছরের পর বছর ধরে বাংলার গ্রাম-গঞ্জে চলে আসা এক পুরনো লোকাচার ,ব্যাঙের বিয়ে দিয়ে বর্ষা ডাকার আচার। সেই আচারকেই এবার বিশ্বাস করলেন চা-বাগানের শ্রমিক ও কৃষকেরা। শুক্রবার রাতে জাঁকজমক করে আয়োজিত হল দুই ব্যাঙের বিয়ে। বরণ থেকে শুরু করে মালা বদল, খাওয়াদাওয়া, গান-বাজনা—কোনও কিছুতেই খামতি ছিল না। পাড়ার মহিলারা সানাইয়ের সুরে বিয়ের সঙ্গীত গাইলেন, ছেলেরা ব্যস্ত ছিল বর-কনের সাজ ও যাত্রাপথে।
চা শ্রমিকদের একাংশ জানিয়েছেন, ‘‘এই প্রচণ্ড দাবদাহে বাগানে জল নেই। পাতাগুলি শুকিয়ে যাচ্ছে। কুঁড়ি তোলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমরা রোজগারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। অন্য দিকে, কৃষকরাও ধান রোপণ করতে পারছেন না। তাই পুরনো বিশ্বাস মেনে ব্যাঙের বিয়ে দিলাম। মা প্রকৃতিই ভরসা।’’
বৃষ্টি না হলে আগামী দিনে চা উৎপাদনে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কৃষিকাজও ব্যাহত হচ্ছে চরম ভাবে। এমন অবস্থায় প্রাকৃতিক শক্তিকে তুষ্ট করতেই এই অভিনব আয়োজন।
তবে প্রশ্ন উঠছে—বিজ্ঞান ও আধুনিক চাষপদ্ধতির যুগে এখনও এই রকম লোকাচারে মানুষ বিশ্বাস করেন কী ভাবে? উত্তরে শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য, ‘‘এটা কেবল বিশ্বাস নয়, আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গ। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষ যুগে যুগে দেব-দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছে। এই বিয়ে তারই এক প্রতীক।’’
বৃষ্টির দেখা মিলবে কি না, সেটা এখনও অনিশ্চিত। তবে শুক্রালাইনের আকাশে যেন এক চিলতে আশার রং ছড়িয়ে দিল এই ব্যাঙের বিয়ে।
