ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ফের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন প্রক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সূত্র অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন যে, তাঁদের দল এবার সাধারণ নির্বাচন বয়কট করতে পারে। দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিরোধীদের লাগাতার সহিংসতা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতার কারণে পরিস্থিতি অনুকূলে নেই। ফলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুর্ণ আশা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব। কিন্তু বিএনপি এবং জামায়াতের যৌথ আন্দোলন, বিদেশি রাষ্ট্রগুলির মন্তব্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের হস্তক্ষেপে নির্বাচন প্রক্রিয়া ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করেছে। শেখ হাসিনা মনে করছেন, এই অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিলে তা দল এবং দেশের ভাবমূর্তির পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে।
আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, দলের ভেতরে এই বিষয়ে মতভেদ তৈরি হয়েছে। একাংশ মনে করছে, নির্বাচন বয়কট করলে বিরোধীরা রাজনৈতিক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, আরেক অংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নিলে সহিংসতার আশঙ্কা প্রবল, তাই জননিরাপত্তা এবং দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে বয়কটই যুক্তিযুক্ত পথ শেখ হাসিনার দলের কাছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের মোড় আনতে পারে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনে না যাওয়া মানে কার্যত রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি। এর ফলে নতুন জোট, বিকল্প নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ আরও বাড়তে পারে। অন্য দিকে বাংলাদেশের বাকি রাজনৈতিক দল গুলির মতে শেখ হাসিনার দল যে পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়ে গিয়েছিল, আবার আসন্ন নির্বাচনে প্রতিপক্ষ হিসাবে লড়াইটা আরও কঠিন হবে তাঁদের জন্য। তাই আগেভাগে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
