ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি বছরের শুরুতে আমেরিকার ওহায়ও এলাকায় এক ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় বছর ১৭-র অন্তঃসত্ত্বা অ্যাশলি হোমস। অ্যাশলির পরিবারের তরফ থেকে দাবি করা হয় দুর্ঘটনার সময় তার সঙ্গে ৩৩ বছরের ভারতীয় তারসেম সিং ড্রাইভার আসনে ছিল। অ্যাশলির মা প্রকাশ্যে তানসেমকে দেশ থেকে আইনিভাবে বহিষ্কারের দাবি তোলে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফেবরুয়ারি মাসের ১৬ তারিখ নিজের গাড়ি নিয়ে ঘন্টায় প্রায় ১৬০ কিমি বেগে গাড়ি ছুটিয়ে যায় তারসেম সিং। পুলিশ একাধিক বার থামার নির্দেশ দিলে তা এড়িয়ে আরও সজোরে গাড়ি চালিয়ে চায় সে। পাশের আসনেই ছিল তার অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবী অ্যাশলি। পুলিশের তাড়া খেয়ে সামনে থেকে আগত এক জিপকে ধাক্কা মারে তারসেমের রেঞ্জ রোভার। ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় অ্যাশলি। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও প্রাণে অ্যাশলি এবং তার গর্ভে থাকা বাচ্ছাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অপরদিক থেকে আসা জিপের চালক গুরতর আহত হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি তারসেম সিং-এর বিরুদ্ধে হত্যা, ট্র্যাফিক নিয়মভঙ্গ এবং পুলিশের নির্দেশ এড়িয়ে যাওয়ায় মামলা দায়ের করেছে। তারসেমের আইনজীবীরা দাবি তোলে পুলিশের তাড়া খেয়েই জোড়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। অ্যাশলির হত্যা নিছকই অনিচ্ছাকৃত বলে পেশ করা হয় জুরির কাছে।
দুর্ঘটনার পর অ্যাশলির পরিবারের তরফ থেকে তারসেমের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির দাবি তোলা হয়। এবং তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করার আর্জিও জানান অ্যাশলির মা। যদিও জুরির সামনে তারসেম তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বিকার করে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে। কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি তারসেমের বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার জরিমানা আরোপ করেছে। এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেন্ট ডটেনার জারি করেছে। এর জেরে ঐ দেশে সাজা প্রাপ্তি পর তারসেমকে দেশ থেকে বহিষ্কার করতে পারে সেদেশের সরকার।