ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সাউদ্যাম্পটনে ১৮ বছরের ছাত্র হেনরি নওয়াকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা পুলিশ বডিক্যাম ফুটেজে দেখা গিয়েছে, গুরুতরভাবে ছুরিকাহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা হেনরিকে প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে পুলিশ। রক্তাক্ত অবস্থায় সাহায্যের জন্য আকুতি জানালেও তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করা হয়। এই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই ব্রিটেনজুড়ে পুলিশি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ডিসেম্বরে। অভিযোগ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক ভিকরুম ডিগওয়া একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে হেনরি নওয়াককে আক্রমণ করে। হামলার পর ডিগওয়া নিজেকে বর্ণবিদ্বেষমূলক আক্রমণের শিকার বলে দাবি করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ প্রথমে ডিগওয়ার বক্তব্যকেই সত্য বলে ধরে নেয়। অন্যদিকে, মারাত্মকভাবে আহত হেনরি বারবার জানাতে থাকেন যে তাকে ছুরি মারা হয়েছে এবং তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না।
ভিডিওতে দেখা যায়, হেনরি মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছেন এবং সাহায্য চাইছেন। তিনি বারবার বলছেন, “আমাকে ছুরি মারা হয়েছে” এবং “আমি শ্বাস নিতে পারছি না।” কিন্তু প্রথমদিকে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা তার বক্তব্যে আস্থা না দেখিয়ে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। এমনকি একজন কর্মকর্তা তার আঘাতের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন হেনরি ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকরা পৌঁছলেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তী তদন্তে উঠে আসে যে, হেনরিই ছিলেন হামলার শিকার এবং ডিগওয়ার বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার অভিযোগের কোনও ভিত্তি ছিল না। আদালতে প্রসিকিউশন জানায়, ডিগওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য দিয়ে তদন্তকে অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেছিলেন। বিচার চলাকালীন প্রমাণিত হয় যে তিনি পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিলেন।
সাউদ্যাম্পটন ক্রাউন কোর্টে মামলার শুনানি শেষে ভিকরুম ডিগওয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, অন্তত ২১ বছর কারাগারে কাটানোর আগে তিনি মুক্তির আবেদন করতে পারবেন না। বিচারক রায়ে বলেন, অভিযুক্ত শুধু একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডই ঘটাননি, বরং মিথ্যা অভিযোগ তুলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করেছিলেন।
ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ব্রিটেনের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মানবাধিকার কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশ পুলিশের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, একজন গুরুতর আহত ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা দ্রুত উপলব্ধি না করে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
হেনরির পরিবারও পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাদের ছেলে মৃত্যুর আগে একাধিকবার সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেই আবেদন যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই পুলিশি ভূমিকা নিয়ে স্বাধীন তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্মকর্তারা আদৌ নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে কাজ করেছিলেন কি না এবং আহত যুবকের প্রতি তাদের আচরণে কোনও ধরনের গাফিলতি ছিল কি না। তদন্তের ফলাফলের দিকে এখন নজর রয়েছে গোটা ব্রিটেনের।