ওঙ্কার ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনেতাকে হাঙ্গেরিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগেয়ার। সেই তালিকায় ছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-ও। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে গিয়ে এবার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিলেন মাগেয়ার। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তি হাঙ্গেরির মাটিতে পা রাখলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাগেয়ার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-এর খাতায় ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত কেউ যদি কোনও সদস্য দেশে প্রবেশ করেন, তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা বাধ্যতামূলক। তাঁর কথায়, প্রতিটি রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রপ্রধান এই আইনের বিষয়ে অবগত। পাশাপাশি তিনি এটাও স্পষ্ট করে দেন যে, হাঙ্গেরি আইসিসির সদস্য ছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান বজায় রাখবে।
জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর শপথগ্রহণ উপলক্ষে বহু বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মাগেয়ার। সেই তালিকায় নেতানিয়াহুর নাম থাকলেও, শপথের পর এই বিষয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি জানান, আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা আগে করা হয়েছিল, তা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে নীতিগত অবস্থানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মেলে।
উল্লেখ্য, গত বছর বুদাপেস্টে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন হাঙ্গেরির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, আইসিসির সদস্যপদ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা ২০২৬ সালের জুনে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে নতুন সরকারের অধীনে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গাজায় সামরিক অভিযানের জেরে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। যদিও এই পদক্ষেপের কড়া বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি আইসিসির শীর্ষ বিচারপতি ও প্রসিকিউটরদের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে হাঙ্গেরির নতুন অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।