ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অশান্তির প্রায় তিনমাস পরেও শান্তিচুক্তি নিয়ে জল্পনা থেকে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন সেই সম্ভাবনাকে কার্যত নস্যাৎ করে দিল তেহরান। ইরানের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে ট্রাম্প ও খামেনেইর মধ্যে কোনও বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলার যে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা আপাতত অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক দফায় কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের তরফে ইঙ্গিত মিলেছিল যে, যদি দুই দেশের মধ্যে কোনও ইতিবাচক সমঝোতা গড়ে ওঠে, তাহলে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে আগ্রহী। তাঁর এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছিল যে, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর হয়তো দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মোড় নিতে পারে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোনও বৈঠক নিয়ে বর্তমানে কোনও আলোচনা বা প্রস্তুতি চলছে না। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বক্তব্য, ইরানের নীতি এবং কূটনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। দেশের জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা কোনও আপস করতে রাজি নয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক বার্তা বা জনসমক্ষে দেওয়া মন্তব্যের ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না বলেও জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ক বহু বছর ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন উদ্বেগ এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং পশ্চিমা দেশগুলি অযথা চাপ সৃষ্টি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশগুলি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবও আমেরিকা-ইরান সম্পর্কের ওপর পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হত।
তবে ইরানের সর্বশেষ অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অন্তত এখনই সেই ধরনের কোনও অগ্রগতি ঘটছে না। ফলে পারমাণবিক চুক্তি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে চলমান আলোচনা কোন দিকে এগোবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে। তাই ট্রাম্প ও খামেনেইর সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, ইরানের এই মন্তব্যে তা আপাতত অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেল।