ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অশান্তির মধ্যেই ইরানের সামরিক সংগঠন নিয়ে আন্তর্জাতিক দেশ গুলির অবস্থান নিয়ে ইজরায়েলের আর্জি ঘিরে ফের জোর বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। ইরানের সরকারি সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভেলুশানারি গার্ড কর্পস্’ কে জঙ্গী সংগঠনের তকমা দিতে ভারতের কাছে আর্জি জানালো ইজরায়েল। পাশাপাশি ওই সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও তুলেছে ইজরায়েলি প্রশাসন।
ইজরায়েলের দাবি, আইআরজিসি শুধুমাত্র ইরানের একটি সামরিক শাখা নয়, বরং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সংঘর্ষে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া এক প্রভাবশালী শক্তি। ইজরায়েলি আধিকারিকদের অভিযোগ, এই সংগঠন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে এবং একাধিক দেশে অস্থিরতা তৈরির পিছনে তাদের ভূমিকা রয়েছে। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক মহলের উচিত আইআরজিসি-র বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান গ্রহণ করা।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলিতে ইজরায়েলের তরফে ভারতের সঙ্গে এই বিষয়টি বিশেষভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। তেল আভিভের বক্তব্য, ইতিমধ্যেই আমেরিকা আইআরজিসি-কে বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে। এছাড়া ইউরোপের একাধিক দেশ ও পশ্চিমি শক্তিও ইরানের এই বাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে ভারতও যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের উপর আরও চাপ তৈরি হবে। তবে এই প্রশ্নে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত জটিল বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, একদিকে ইজরায়েল ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সহযোগী দেশ। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গেও ভারতের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি আমদানি, চাবাহার বন্দর প্রকল্প এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ইরান ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
ভারত বরাবরই পশ্চিম এশিয়ার বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। একদিকে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে ইরান ও আরব দেশগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ অটুট রাখা এই নীতিই দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করেছে নয়াদিল্লি। ফলে আইআরজিসি-কে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণার প্রশ্নে ভারত তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এদিকে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, হুমকি এবং সামরিক প্রস্তুতির খবর সামনে এসেছে। তার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা বেড়েছে, কারণ বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথের উপর নির্ভরশীল। ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশের কাছে এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।