ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর গোটা ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের একটি অংশে প্রবল বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। আতঙ্কিত যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়। এই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর কথা প্রকাশ করেছে কুয়েত। পাশাপাশি ইরানের হামলা নিয়ে সমালোচনা করেছে। যদিও ইরানের সামরিক সংঘঠন ইসলামিক রেভেল্যুনেশারি গার্ড কর্প্স্ এই হামলা অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে এটি সম্ভবত আমেরিকার মিসাইল প্রতিরক্ষা সিস্টেমের ভুলে হওয়া দুর্ঘটনা মাত্র।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিস্ফোরণের পর টার্মিনালের ভিতরে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় দমকল ও উদ্ধারকারী দল। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয় এবং কয়েক ঘণ্টার জন্য বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে বিমানবন্দরের অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। টার্মিনালের কাচের দেয়াল ভেঙে যায়, ছাদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিমানবন্দরের একাধিক পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
ভারতীয় দূতাবাস নিহত ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কুয়েতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কুয়েত সরকার ঘটনাটিকে বেসামরিক অবকাঠামোর উপর গুরুতর হামলা হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলার নেপথ্যে থাকা ড্রোনের গতিপথ ও প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে হামলার অভিঘাত ও এর কূটনৈতিক প্রভাব আগামী দিনেও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।