ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সংহিতার পরিস্থিতি নিয়ে দিন দিন উদ্বেগ বেড়েই চলছে। আশা করা হয়েছিল ইউনূস সরকারের শাসনেরর পর তারেকের শাসনকালে দেশের অভ্যন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। কিন্তু বাংলাদেশে এপ্রিল মাসজুড়ে গণপিটুনি, জনতার হামলা এবং মব ভায়োলেন্সের ঘটনায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ৪৯ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ব্যক্তিগত শত্রুতা, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং নানা গুজবকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনাগুলি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।
রিপোর্টে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপের পরিবর্তে বহু ক্ষেত্রেই উত্তেজিত জনতা নিজেরাই শাস্তি দেওয়ার নামে নির্মমভাবে প্রহার করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে, আবার বহু মানুষ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে এই ধরনের সহিংসতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার অভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত গুজব ছড়িয়ে পড়া এই প্রবণতার অন্যতম প্রধান কারণ। অভিযোগ উঠেছে, অনেক সময় ভুয়ো তথ্য বা উস্কানিমূলক প্রচারের ভিত্তিতে নিরীহ মানুষও জনরোষের শিকার হচ্ছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক নৃশংস ঘটনার পর বিষয়টি জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও সামাজিক উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলাগুলিতে মৃত্যুর হার বেশি। মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করেছেন, এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার এবং বিচারব্যবস্থার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশাসনের কাছে দাবি উঠেছে, গণপিটুনি ও জনতার হিংসা রুখতে কঠোর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ নয়, সমাজে সহনশীলতা বৃদ্ধি, গুজব প্রতিরোধ এবং বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা পুনর্গঠন অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় গণপিটুনির মতো এই সহিংস প্রবণতা বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোর জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।