ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়ার দুই অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন কূটনৈতিক মিত্র দেশ ভারত এবং চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কোন রকম হস্তক্ষেপ করতে নারাজ রাশিয়া। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট বার্তা দেন, ভারত ও চিনের সম্পর্ক অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে রাশিয়া কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ করতে চায় না। সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ভারত এবং চিন উভয়ই রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার। তবে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র নয়াদিল্লি ও বেজিংয়েরই রয়েছে।
পুতিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত মতপার্থক্য এবং অন্যান্য জটিল ইস্যু থাকলেও উভয় দেশের নেতৃত্ব সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলির সমাধানে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে দুই দেশ ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। রুশ প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, মস্কোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কখনও চিনের বিরুদ্ধে নয়, আবার চিনের সঙ্গে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতাও ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়া সবসময় বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির পক্ষে। সেই কারণেই নয়াদিল্লি এবং বেজিং উভয়ের সঙ্গেই সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখছে মস্কো।
বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। পুতিন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং সংবেদনশীল। পাকিস্তানকে সম্পূর্ণভাবে চিনের প্রভাবাধীন বলে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা তিনি সমর্থন করেন না। তাঁর মতে, পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তাদের স্বতন্ত্র কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। যদিও চিনের সঙ্গে তাদের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য, তবুও ইসলামাবাদের নিজস্ব কৌশলগত অবস্থান রয়েছে।
ভারতের প্রসঙ্গে পুতিন বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম দ্রুত বিকাশমান শক্তি হিসেবে ভারত ক্রমশ নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ভারত স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যা বিশ্বমঞ্চে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। রাশিয়া-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী সুর শোনা যায় পুতিনের বক্তব্যে। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়া এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান যৌথভাবে উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রেও রাশিয়া ভারতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এর ফলে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা।
বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে পুতিনের এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে একইসঙ্গে দুই দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রক্ষা করার কৌশলই আবারও তুলে ধরেছে মস্কো।