ওঙ্কার ডেস্ক: ফের ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই হামলা ‘খুবই কঠোর’ হবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর ফলে যুদ্ধের অবসানের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। সংঘাত আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
কঠোর সতর্কবার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ এবং অন্যান্য তেল ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার মতোই ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করবে ওয়াশিংটন। নিজের মালিকানাধীন ‘ট্রুথ সোশ্যাল’এ ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ রাতে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছে—ইরান, যার নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান-বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সব ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—এমনকি তাদের অধিকাংশ আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও—ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে!’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘অদূর ভবিষ্যতে কোনও এক সময় আমরা খার্গ দ্বীপ ও অন্যান্য তেল ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেব। ইরানের তেল ও গ্যাস বাজারের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করব—ঠিক যেমনটা আমরা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি, যা ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্র—উভয়ের জন্যই চমৎকারভাবে কাজ করছে।’
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, খার্গ দ্বীপ ইরানের অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র। এপ্রিলের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হামলা করেছিল। ইরানের তেল রফতানির সিংহভাগই এই ছোট দ্বীপটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। তাই এখানে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে তা তেহরানের জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। খার্গ দ্বীপটি পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৬ মাইল (২৬ কিমি) দূরে এবং হরমুজ প্রণালীর প্রায় ৩০০ মাইল (৪৮৩ কিমি) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। এর গভীর জলের কারণে এখানে বড় আকারের ট্যাঙ্কার নোঙর করতে পারে, ইরানের অগভীর মূল ভূখণ্ডের উপকূলে যা সম্ভব নয়। কৌশলগত ভাবে এই দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে এখানে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই এই দ্বীপ দখল করে নেয় তাহলে তা হবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।