ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান–আমেরিকা সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালীর কাছে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের আকাশসীমার কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে শনাক্ত করে তা প্রতিহত করা হয়েছে এবং আঘাত হানা হয়েছে।
ইরানের সামরিক সূত্র অনুযায়ী, হরমুজ দ্বীপের নিকটবর্তী আকাশপথে ওই যুদ্ধবিমানটি প্রবেশ করে। সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তরফে যুদ্ধবিমানটিকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছোঁড়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য, এই হামলার ফলে যুদ্ধবিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, পুরো ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ তাদের হাতে রয়েছে, যেখানে আকাশে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এই ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা তুলে ধরতে চেয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এই ঘটনাকে তারা দেশের আকাশসীমা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় সাফল্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
অন্যদিকে, এই দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনার তরফে জানানো হয়েছে, তাদের কোনও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়নি এবং ইরানের দাবি ভিত্তিহীন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সব মার্কিন সামরিক বিমান সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরস্পরবিরোধী দাবি ও পাল্টা দাবির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হওয়ায়, এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। পরে নিজের অবস্থান শিথিল করে তেহরান। আবার এই অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়লে তার প্রভাব তেল পরিবাহী জাহাজ গুলোর উপর পরবে এবং যার প্রভাব গোটা বিশ্বে পরবে।